Mysterious Disappearance: আনন্দপুর কাণ্ডে নাটকীয় মোড়! যুগলের দেহ উদ্ধার নিয়ে বাড়ছে রহস্য
After Rohit Agarwal’s body was recovered from the Anandapur canal, suspicion mounts over what really happened to his companion Ranita Vaidya.
Truth Of Bengal: স্কুটি চালানো শিখতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন। অবশেষে আনন্দপুরের খাল থেকে উদ্ধার হল পঞ্চান্নগ্রামের নিখোঁজ তরুণীর দেহ। আগেই খাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল তরুণীর সঙ্গীর দেহ। কিছুটা দূর থেকে উদ্ধার করা হয় তরুণীর দেহ। খালে নেমে দেহ দুটি উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। এই দেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে কলকাতা পুলিশের প্রশিক্ষিত কুকুর। খাল পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা স্কুটির বক্স খোলার পর সেখান থেকে একটি রুমাল পাওয়া যায়। আর সেই রুমালের গন্ধ শুঁকে কলকাতা পুলিশের কুকুর পৌঁছে যায় যুবকের দেহ যেখানে পড়ে ছিল সেখানে। সেই জায়গায় কলকাতা পুলিশের ডুবুরি নেমে উদ্ধার করে তরুণের দেহ। কিছুক্ষণ পর যুবতীর দেহ পড়ে থাকার জায়গায় চিহ্নিত করে দেয় কলকাতা পুলিশের কুকুর। সেখান থেকেও একই ভাবে উদ্ধার হয় নিখোঁজ তরুণীর দেহ।

[আরও পড়ুনঃ Child Accident: ইসলামপুরের মেলা মাঠ এলাকায় জলে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হল]
জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় নতুন কেনা স্কুটি চালানো শিখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রনিতা বৈদ্য নামে ওই তরুণী৷ এর পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি৷ পুলিশ সূত্রে খবর, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আনন্দপুর থানায় খবর আসে, এক তরুণ এবং তরুণীকে স্থানীয় খালে ঝাঁপ দিতে দেখা গিয়েছে৷ এর পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ দু’জনের খোঁজ শুরু করে পুলিশ৷ সোমবার রাত থেকে ডুবুরি নামানো হয় তরুণীকে খোঁজার জন্য। মঙ্গলবার খাল থেকে প্রথমে উদ্ধার ওই তরুণীর সঙ্গী রোহিত আগরওয়ালের। তাঁর জামার পকেটে পাওয়া যায় ওই স্কুটির চাবি।
FB POST:https://www.facebook.com/truthofbengal
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে আনন্দপুর চিনা মন্দির খালপাড় এলাকায় স্কুটি চালাতে দেখা যাচ্ছিল পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণীকে। সোমবার রাত ৯টা নাগাদও ওই এলাকায় স্কুটি চালাচ্ছিলেন ওই যুবতী। সঙ্গে ছিলেন তার পরিচিত যুবক রোহিত আগরওয়াল। স্থানীয় পথচলতি মানুষের দাবি, রাস্তায় দু’জনের মধ্যে বচসা ও মারপিটের মতো ঘটনা ঘটেছিল। এরপরেই খালপাড়ে তার স্কুটিটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনই আনন্দপুর থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ফোর্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পড়ে থাকা স্কুটি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। খবর দেওয়া হয় নিখোঁজ যুবতীর পরিবারের লোকজনকে। এরপরেই আনন্দপুর খালে নামানো হয় ডুবুরি। বেশ কয়েক ঘন্টা জলে খোঁজাখুঁজির পর নিখোঁজ যুবতী কোনও সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশ ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা আনন্দপুর থানায় ফিরে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন যে ওই যুবতীকে মারধর করে খালের জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ওই যুবকের খোঁজ মিলছিল না। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার নিখোঁজ তরুণ-তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়।
কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই ৪৫ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। দেখা যায় দৌড়ে ওই তরুণী খালের কিনারায় চলে আসেন। ওই যুবককেও পেছন পেছন আসতে দেখা যায়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন, কেউ কি সেই সময় খালে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন? নাকি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? ওই যুবক এগিয়ে এলে দু’জনেই জলে পড়ে যান। তারপরই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দেহ উদ্ধারের পর তদন্তকারীরা বলছেন, বাইরে থেকে শরীরে কোনও আঘাত দেখা যায়নি। জলে ডুবেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে কি না বিষয়টি ময়নাতদন্তের পর স্পষ্ট হবে। দেহ দুটি ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে আনন্দপুর থানার পুলিশ।
জানা যাচ্ছে, ওই তরুণী কয়েক মাস আগে একটি স্কুটি কেনেন। ওই যুবকের সঙ্গে মাঝে মাঝেই ওই এলাকায় স্কুটি চালানো শিখতে যেতেন। আগের বছর পড়াশোনা শেষ হলে বাড়িতে থাকতেন। অন্যদিকে, রোহিত অনলাইন ডেলিভারির কাজ করতেন। দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। দু’জনের মধ্যে স্রেফ বন্ধুত্ব না প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা জানা যায়নি। তবে বন্ধুবান্ধব মহল সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন থেকেই দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল। দু’জনের মধ্যে ঝগড়াও হচ্ছিল। এই ঘটনার পেছনে সম্পর্কের টানাপোড়েন আছে কিনা, সেই দিকটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


