Supreme Court: সন্তানের হেফাজত নিয়ে জটিল মামলা, রাশিয়ান মায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের
সেই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা ছোট ছেলেকে বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বিচারপতি সুর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ।
Truth of Bengal: সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত একটি জটিল মামলায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিশেষ নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। রাশিয়ার এক মহিলার খোঁজ পাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা ছোট ছেলেকে বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বিচারপতি সুর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সৈকত বসু নামক এক ব্যক্তি ও তাঁর রাশিয়ান স্ত্রী ভিক্টোরিয়া। টাইমস নাও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৈকত জানিয়েছেন তাঁর ও ভিক্টোরিয়ার সম্পর্কের উত্থান-পতনের বিস্তারিত কাহিনি।
[আরও পড়ুনঃ Odisha: যৌন হেনস্তার প্রতিবাদে স্তব্ধ ওড়িশা, ছাত্রী আত্মহত্যায় উত্তাল রাজ্যজুড়ে ১২ ঘণ্টার বন্ধ]
সৈকতের কথায়, “ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে আমার আলাপ ফেসবুকে। বন্ধু হিসাবে শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। আমি ভারতে আসার পর, ও নিজেও এখানে চলে আসে এবং দিল্লিতে আমাকে প্রপোজ করে। যদিও প্রথমে আমি রাজি হইনি, কিন্তু পরে চিনে গিয়ে আবারও যখন দেখা হয়, তখন আমি ওর প্রেমের প্রস্তাব মেনে নিই।” প্রেমের পরিণতি ঘটে বিয়েতে। ২০১৭ সালে রাশিয়ার মস্কোতে গিয়ে ভিক্টোরিয়ার বাবা-মায়ের সম্মতিতেই বিয়ে করেন সৈকত। বিয়ের পরে তাঁরা চিনে ফিরে যান। কিন্তু সেখানে ভিক্টোরিয়া কোনওভাবেই মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। বারবার ভারতের কথা বলতেন। শেষ পর্যন্ত সৈকত তাঁর চাকরি ছেড়ে ভারতে ফিরে আসেন। (Supreme Court)
২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন সৈকত। কিন্তু তার মাঝেই শুরু হয় দাম্পত্য অশান্তি। ভিক্টোরিয়া তখন অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু রাশিয়া ফেরার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠেন। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, সন্তানের নাগরিকত্ব যেন রাশিয়ান হয়।সৈকত জানান, “করোনার প্রথম ধাপে লকডাউন চলাকালীনও ভিক্টোরিয়া দেশ ছাড়তে চাইছিলেন। এমনকি ওর মা আমাকে মেল করে লেখেন, যদি আমি ভিক্টোরিয়াকে মস্কো নিয়ে যাই, তাহলে তিনি আমায় প্রচুর টাকা দেবেন। কোনও মা এরকম মেল করে?” সৈকতের অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় ভিক্টোরিয়া চিকিৎসকের নির্দেশ মানতেন না, ওষুধ খেতেন না। তাঁর মতে, সন্তানসম্ভবা অবস্থায় বারবার অপারেশন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন ভিক্টোরিয়া।(Supreme Court)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal/
এই খামখেয়ালিপনার ফলেই তাঁর পুত্র শিশু জন্মায় হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ও জন্ডিস নিয়ে। ভিক্টোরিয়া চিকিৎসকদের দেওয়া সন্তানের প্রেসক্রিপশন পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন। আরও গুরুতর অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর একবারও তাকে মাতৃদুগ্ধ পান করাননি ভিক্টোরিয়া। এই পরিস্থিতিতে সন্তানের দায়িত্ব নিতে সৈকত ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে সেটি সম্ভব না হওয়ায়, তিনি চাকরি ছেড়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় যোগ দেন। এরপরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ভিক্টোরিয়া ও তাঁর মা কোথায় যেতেন, তা নিয়ে সৈকতের কোনও ধারণা ছিল না। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ ভিক্টোরিয়া ও তাঁর মা হঠাৎ গায়েব হয়ে যান, সঙ্গে নিয়ে যান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জিনিসপত্র। তাঁদের হদিশ না পেয়ে সৈকত থানায় মিসিং ডায়েরি করেন।
কিছুদিনের মধ্যেই সৈকতের কাছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) থেকে একটি মেল আসে। তাতে জানা যায়, ভিক্টোরিয়া তাঁর বিরুদ্ধে কেস করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি জানেন না সন্তান কোথায় আছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয়, সন্তান বাবার কাছেই রয়েছে এবং সুরক্ষিত রয়েছে। এরপরে বিষয়টি মিডিয়েশনে পাঠানো হয়। তিন মাস ধরে প্রিয়া হিঙ্গুরানি এই মধ্যস্থতা করেন এবং রিপোর্টে জানান, শিশুটি বাবার কাছেই স্বচ্ছন্দ বোধ করে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দেয়, সন্তান দিনে নির্দিষ্ট সময় বাবার এবং নির্দিষ্ট সময় মায়ের সঙ্গে থাকবে। এই অর্ডার চলে দুই বছর।
সৈকতের অভিযোগ, এই দুই বছরে তাঁর সন্তানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়। একাধিক রোগে আক্রান্ত হয় সে। ফলে সুপ্রিম কোর্ট আবার হস্তক্ষেপ করে এবং শিশুকে এইমসে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর আদালত ঠিক করে, শিশু শুধুমাত্র সপ্তাহে আড়াই দিন মায়ের সঙ্গে থাকতে পারবে এবং তাও পুলিশি নজরদারিতে।






