Rare Chestnut-capped Babbler: ১৫০ বছর পর হাওড়ায় ধরা দিল ‘লাজুক অতিথি’! বিরল পাখির খোঁজে উল্লসিত পাখিপ্রেমীরা
জীববৈচিত্র্যর নিরিখে বাংলার সাফল্যর মুকুটে যোগ হল নয়া পালক। দক্ষিণবঙ্গের জেলা হাওড়ার জঙ্গলে ১৫০ বছর পর বিরল প্রজাতির পাখির খোঁজ মিলেছে।
Truth of Bengal: জীববৈচিত্র্যের নিরিখে বাংলা দেশের মধ্যে সেরা। পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র, নদী, কী নেই বাংলায়। বন্যপ্রাণী, পাখি ও বিভিন্ন রকমের প্রজাতির উদ্ভিদের নিরিখেও বাংলা সেরা। জীববৈচিত্র্যর নিরিখে বাংলার সাফল্যর মুকুটে যোগ হল নয়া পালক। দক্ষিণবঙ্গের জেলা হাওড়ার জঙ্গলে ১৫০ বছর পর বিরল প্রজাতির পাখির খোঁজ মিলেছে। বিরল প্রজাতির লাজুক পাখি Chestnut-capped babbler এর খোঁজ মিলেছে হাওড়ায়। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা হাওড়ায় পাখির থাকার খবর নিশ্চিত করেছেন (Rare Chestnut-capped Babbler)।
দেশের স্বাধীনতা লাভের এত বছর পর Chestnut-capped babbler এর মতো বিরল প্রজাতির পাখির খোঁজ এই প্রথম বার মিলল দক্ষিণবঙ্গে। মঙ্গলবারই আন্তর্জাতিক জার্নাল Indian Birds এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্র। কৌশিক ঢেউটি ও শেখর প্রামাণিক মিলে গবেষণা চালান (Rare Chestnut-capped Babbler)।
আরও পড়ুনঃ Nipah virus: ফের কেরলে নিপা ভাইরাসের থাবা, সতর্ক তিন জেলা
এই বিরল প্রজাতির পাখির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নামও। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম শেষবার ১৮৭৫ সালে এই বিরল প্রজাতির পাখি Chestnut-capped babbler দেখেন। ১৮৮৯ সালে তাঁর লেখা বই Nests and Eggs of Indian Birds এ এই পাখির কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৮৭৫ সালের ১৪ আগস্ট সল্টলেকে এই পাখি দেখার কথা উল্লেখ করেন হিউম (Rare Chestnut-capped Babbler)।
অত্যম্ত লাজুক স্বভাবের ছোট্ট পাখি Chestnut-capped babbler। পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে। মূলত ঘন খাসজমি ও জলাশয়ের কাছাকাছি জঙ্গলে থাকে এই পাখি। মানুষের কাছাকাছি থাকে না। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা এই পাখির খোঁজে ১০২ জায়গায় গবেষণা চালান। হাওড়ায় রূপনারায়ণ নদ ও দামোদর নদের তীরে ২৩টি জায়গায় খোঁজ মেলে Chestnut-capped babbler নামক বিরল প্রজাতির পাখির। অরফুলি, আমডাঙা, কামড়দহ, কালবংশ, চর কাঁটাপুকুর নামক জায়গায় বেশি দেখা গেছে এই বিরল প্রজাতির পাখি। পুরুষ পাখির চোখের মণি লাল আর মেয়ে পাখির চোখের মণি কালো হয়। প্রজননের সময় লাল মণিওয়ালা পাখি গান গায়। সময় অনুযায়ী গলার স্বর বদলে যায় (Rare Chestnut-capped Babbler)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/
গবেষকদের মতে, স্বভাব লাজুক পাখি Chestnut-capped babbler ঘাসজমিতে বাঁচে। কারণ এই প্রজাতির পাখি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে ভালোবাসে কিন্তু জবা ও গাঁদাফুলের চাষের জন্য জলাজমি, ঘাসজমি কেটে ফেলা হচ্ছে। ঘাসজমি না থাকলে এই বিরল প্রজাতির পাখিও থাকবে না। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এরকম বিরল প্রজাতির পাখিকে বাঁচাতে হলে আমাদের তাদের বাসস্থানকে বাঁচানো জরুরি। খুব কম সংখ্যায় এই পাখি রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ ও উদ্যম নেওয়া জরুরি (Rare Chestnut-capped Babbler)।






