Arakan Army: স্বাধীন আরাকান না মুক্ত বার্মা? কি চায় আরকান আর্মি
আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাখাইনে অভিযান শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলীয রাখাইন রাজ্যটির এই মুহূর্তে ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী: আরাকান দক্ষিণ-পশ্চিম বার্মা, বর্তমান মায়ানমারের একটি উপকূলীয় অঞ্চল। অঞ্চলটির ঐতিহাসিক নাম আরাকান হলেও ১৯৭৪ সাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাখাইন রাজ্য’ হিসেবে স্বীকৃত (Arakan Army)। চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকার (বাংলাদেশ) সীমান্তে নাফ মোহনা থেকে দক্ষিণে গাওয়া নদী পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর সংকীর্ণ ভূমি, দৈর্ঘ্য ৪০০ মাইল আর প্রস্থ ৯০ মাইল। এই সংকীর্ণ এলাকা জুড়েই গড়ে উঠেছে আরাকান আর্মি (এএ), যদিও তাদের কাজের সূত্রপাত বার্মার পার্বত্য কাচিন রাজ্যে।
[আরও পড়ুন: Digha RathYatra: দিঘার রথযাত্রা নিয়ে নবান্নে বৈঠক, থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীও]
২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল কাচিন রাজ্যে ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) এবং আরাকান আর্মি একসঙ্গে প্রতিষ্ঠিত। সেখানে তারা সামরিক কলা কৌশলে প্রশিক্ষিত হয়ে, কাচিন স্বাধীনতা লড়াইয়ে হাত পাকিয়ে রাখাইন রাজ্যে ফেরে। আরাকানি (Arakan Army) জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তারা রাখাইন রাজ্যে তৎপরতা শুরু করে, একের পর এক এলাকা দখল করে আরাকান আর্মি মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। তাদের উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সঙ্গে এক বিশাল লড়াকু বাহিনী। শক্তিশালী নেতৃত্ব, রাখাইন জাতীয়তাবাদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গিই আরাকান আর্মির প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিতে আসা নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি-এর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির সরকার আরাকান আর্মিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সুচি নিজেই ক্ষমতাচ্যুত হন। সামরিক বাহিনী আরাকান আর্মিকে হাতে রাখতে, তাদের ওপর থেকে সন্ত্রাসবাদী তকমা প্রত্যাহার করে ১১ মার্চ ২০২১, ক্ষমতা আসার সঙ্গে সঙ্গেই। প্রসঙ্গত, তাত মাদাও বা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীই ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ প্রথম আরাকান আর্মিকে (এএ) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ২০২৪ সালে জান্তা সরকার আরাকান আর্মিকে বাগে না আনতে পেরে আবার সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করে। সন্ত্রাসী তকমা, আরাকান আর্মির(Arakan Army) অগ্রগতি আটকাতে পারেনি।
আরাকান আর্মি (Arakan Army) ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাখাইনে অভিযান শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলীয রাখাইন রাজ্যটির এই মুহূর্তে ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। জান্তা নিয়ন্ত্রিত তিনটি শহরের মধ্যে সিত্তে ও কিয়াউকফিউতে লড়াই চলছে, অন্যদিকে মানাউংই একমাত্র শহর যেখানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। আরাকান আর্মি মংডু, বুথিডং এবং চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপসহ নাফ নদীর তীরবর্তী অঞ্চলও দখল করে নিয়েছে।
চিন রাজ্যের পালেতওয়া ঐতিহাসিকভাবে রাখাইন রাজ্যের অংশ ছিল বলেই আরাকান আর্মি (Arakan Army) মনে করে। কার্যকরভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে পুরো সীমান্ত সহ আরাকানের সব রাস্তাঘাট এএ দখলে। জান্তা সরকার রাখাইন রাজ্যে সৈন্য, অস্ত্র এবং অন্যান্য সরবরাহের জন্য এয়ারড্রপের উপর নির্ভর করছে। আরাকান আর্মি জান্তা কর্মকর্তা ও সৈন্যদের আত্মসমর্পণের উপদেশ দিচ্ছে, সাড়াও মিলছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যেই আরকান স্বাধীন বা জান্তা মুক্ত হতে পারে। আরাকান আর্মি এরই মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইন টাউনশিপগুলোতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করছে। উদ্দেশ্য, পার্টি কর্মীদের প্রশাসনে পরিচিত করানো।
আরাকান আর্মি (Arakan Army) এর আগে আরাকানের স্বাধীন স্বায়ত্তশাসন পেলেই খুশি বলে মনে করা হতো। ২০১৮ সালের সংবিধানে শান রাজ্যে ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মির স্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়া হয়েছিল। এতকাল আরকান আর্মি এই স্বায়ত্তশাসন মডেলেই সন্তুষ্ট ছিল। নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে জান্তা বাহিনী। দেশ শাসন করার সম্পদ বিশেষ অবশিষ্ট নেই, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য শহরগুলো চলে গেছে আরাকান আর্মির মতন জাতিগত প্রতিরোধ সংস্থা (ইআরও)-দের হাতে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল তারা স্বেচ্ছায় ছেড়েও দিচ্ছে। নেপিদো ও লুইনে সামরিক বাহিনীর স্নায়ুকেন্দ্রগুলিতেও ড্রোন ও রকেট হাঙ্গামা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় শান, কাচিন, কারেনি, কারেন এবং রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক শোচনীয় পরাজয় মিয়ানমারে নতুন সূর্যের ইঙ্গিত জানাচ্ছে। এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য মিয়ানমার সামরিক জান্তা যে পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত মিয়ানমারে জাতীয় ঐক্যের সরকার (এনইউজি) সকল জাতিগত প্রতিরোধ সংস্থা (ইআরও) যেমন আরাকান আর্মি (Arakan Army), আর্মি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মিও আইরাওয়াদি ও সাগাইং অঞ্চলে তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়েছে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পরই নির্বাচিত আইন প্রণেতা ও সংসদ সদস্যদের নিয়েই এই এনইউজি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইআরওগুলিকে সঠিক নেতৃত্ব দেওয়াই এনইউজির এখন প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এএ সহ সকল ইআর-ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ এবং অস্ত্রের জন্য প্রতিবেশী দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চিন চলছে দুমুখো নীতিতে, একদিকে তারা সামরিক শাসনকে শক্তিশালী করে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইআরও-দেরও হাতে রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত।
আমেরিকা জান্তা সরকারের বিরোধী আবার একই সঙ্গে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও আরাকান আর্মির মতো গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগসহ কৌশলগত কারণে ভারত জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও বিশেষ করে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর বিরোধী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারত ৪৮.৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগে একটি বহুমুখী যান ব্যবস্থা প্রকল্প, কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টে (কেএমটিটিপি) চালু করেছে। সমুদ্র, নদী ও সড়ক পরিবহণের মাধ্যমে মিয়ানমারের সিত্তে বন্দরকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে, বিশেষ করে সড়ক ও নদী অবকাঠামো নির্মাণে ভারত অত্যন্ত সক্রিয়।
ইআরও, বিশেষ করে এএ এই প্রকল্পে হামলা চালিয়ে যথেষ্ট ক্ষতি করেছে, কিন্তু তারা চিনের কোনও প্রকল্পেই বাধা দেয়নি। এটা চিনের কূটনীতির সাফল্য হলেও, বার্মায় স্বাধীনতা-আকাঙ্ক্ষী কোনও পক্ষের উচিত হবে না ভারতের বিরক্তি উদ্রেক করা। এখানেই আসছে এনইউজি-এর গুরুত্ব। মিয়ানমার সরকার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ডিসিতে লিয়াজোঁ অফিস এবং রাষ্ট্রদূত কিয়াও মো তুনের মাধ্যমে জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এনইউজি আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন করেছে। এনইউজি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রোহিঙ্গা কর্মী অং কিয়াও মোয়েকে তার উপ-মানবাধিকার মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেয়। স্বৈরাচারী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই, মানব অধিকার প্রতিষ্ঠা, সৃজনশীল তহবিল সংগ্রহ এনইউজি-কে বসন্ত বিপ্লবের নতুন মুখ হিসাবে পরিচিতি এনেছে।
স্বাধীন আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার সুষ্ঠ রূপায়নের ওপর নির্ভর করছে নতুন আরাকানের স্থায়িত্ব। রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে জান্তা ও আরাকান আর্মির সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে। গত বছরের ডিসেম্বরে মংডু ও বুথিডং টাউনশিপ থেকে জান্তা সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার পর, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) প্রভৃতি মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার করে। এই মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পায়। সশস্ত্র মুসলিম গোষ্ঠীরাই বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা বাধ্যতামূলক ভাবে শরণার্থী যুবকদের মিয়ানমার জান্তা সরকারের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করছে। এদের সমর্থনে রয়েছে বাংলাদেশের চরম ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। তারা রাখাইনে স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
এইসব কারণে, আরাকান আর্মি (Arakan Army) রোহিঙ্গিয়া সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয়। আবার, নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত মানবিক সহায়তা স্থগিতের ফলে রোহিঙ্গিয়া শরণার্থীরা ভীষণ ভাবে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশ তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে মরিয়া। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত ১৪ মার্চ বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা সরকার প্রধান রাখাইনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব করেছেন। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ও রাখাইনের মধ্যে একটি মানবিক সহায়তা করিডর প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ছিল। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এর তীব্র বিরোধিতা করায় পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে। শরণার্থী সংকট সমাধানের জন্য কেবল মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেই নয়, আরাকান আর্মি এবং সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সঙ্গেও তারা জড়িত হচ্ছেন।
FB: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/
বাংলাদেশের উপদেষ্টা সরকার আরাকান আর্মিকে (Arakan Army) খাবার, জ্বালানি রসদ দিচ্ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। গত এপ্রিলে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে এএ সংযোগের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে, সরকার তার পশ্চিম সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত থাকবে। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের আরাকান যোগাযোগ শুরু হলেও আরাকান আর্মি উপকৃত রসদ জোগানের বিকল্প রুটের ব্যবস্থায়। আরাকান স্বাধীন হলে বাংলাদেশকে তারা কীভাবে কৃতজ্ঞতা জানায় সেটাই দেখার।


