রাজ্যের খবর

কীর্ণাহারে সোনার দোকান লুটের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি হয়েছিল গেস্ট হাউসে? মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরই তদন্তে নয়া মোড়

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বিশ্বজিৎ কর্মকার কঙ্কালীতলায় ‘ঠাকুরবাড়ি গেস্ট হাউস’ নামে একটি গেস্ট হাউস লিজ নিয়ে চালাতেন।

Truth Of Bengal: সৌতিক চক্রবর্তী, শান্তিনিকেতন: কীর্ণাহারের সোনার দোকান লুট ও ধারাবাহিক বোমাবাজির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের বড় সাফল্য, এই ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ কর্মকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারির পরেই তদন্তের অভিমুখ ঘুরে যাচ্ছে এক রহস্যময় গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বিশ্বজিৎ কর্মকার কঙ্কালীতলায় ‘ঠাকুরবাড়ি গেস্ট হাউস’ নামে একটি গেস্ট হাউস লিজ নিয়ে চালাতেন। সূত্রের দাবি, এই গেস্ট হাউসটি তিনি লিজ নিয়েছিলেন বোলপুরে একটি প্রসিদ্ধ স্বর্ণ দোকান এর মালিক পলাশ কর্মকারের কাছ থেকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গেস্ট হাউসটি নথিভুক্ত রয়েছে পলাশ কর্মকারের স্ত্রীর নামে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঠাকুরবাড়ি গেস্ট হাউসেই নাকি কীর্ণাহারের সোনার দোকান লুটের সম্পূর্ণ ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে সামনে আসে আরও এক রহস্যময় তথ্য। আতঙ্কগ্রস্ত গেস্ট হাউসের এক নিরাপত্তারক্ষী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানান, ঘটনার দিন গভীর রাতে বিশ্বজিৎ কর্মকার সেখানে এসেছিলেন খাবার নিতে। তিনি একাধিক ব্যক্তির জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও দাবি ওই নিরাপত্তারক্ষীর। এই তথ্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছে পুলিশ।

গেস্ট হাউসকে ঘিরে এই সব তথ্য সামনে আসার পর থেকেই পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে ওই গেস্ট হাউস ও তার মালিকপক্ষ। তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কে কে সেখানে যাতায়াত করতেন, সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের লোকেশন এবং লিজ সংক্রান্ত নথিপত্র।

এরই মধ্যে ঘটনাটি ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সংবাদ মাধ্যম বোলপুরে একটি প্রসিদ্ধ স্বর্ণ দোকান এর মালিক পলাশ কর্মকারের কাছে পৌঁছালে, তিনি ক্যামেরা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। অভিযোগ, সেই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী দুর্ব্যবহার করেন এবং অন-ক্যামেরায় কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। এই আচরণ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তদন্তের স্বচ্ছতা ও ঘটনার নেপথ্য ভূমিকা নিয়ে।

একদিকে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত, অন্যদিকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলের নাম জড়িয়ে পড়া—সব মিলিয়ে কীর্ণাহার সোনার লুট ও বোমাবাজির ঘটনা ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, গেস্ট হাউসের রহস্য কতটা গভীরে গিয়ে পৌঁছয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা জেলা।