শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নয়া অধ্যায় ‘ল্যান্ড পুলিং’ – রাজ্যের শিল্পনীতিতে যুক্ত হতে পারে এই পদ্ধতি
বাংলায় বিজেরি সরকার শিল্পের জন্য জমি কেনা বা অধিগ্রহণ করতে অনিচ্ছুক এবং তারা গুজরাট, হরিয়ানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে গৃহীত "ল্যান্ড পুলিং" ব্যবস্থার একটি "পরিবর্তিত" সংস্করণ অনুসরণ করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ শিল্পায়ন। কিন্তু শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জমিনীতি কি হবে তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
বাংলায় বিজেরি সরকার শিল্পের জন্য জমি কেনা বা অধিগ্রহণ করতে অনিচ্ছুক এবং তারা গুজরাট, হরিয়ানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে গৃহীত “ল্যান্ড পুলিং” ব্যবস্থার একটি “পরিবর্তিত” সংস্করণ অনুসরণ করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই নীতির অধীনে, রাজ্য সরকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে, আর বেসরকারি সংস্থাগুলো বাজারদরে জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনবে। এর পাশাপাশি, ক্ষেত্রবিশেষে জমি বিক্রেতাদের তাদের শেয়ারের একটি নির্দিষ্ট অংশ দেওয়া হবে।
তবে জমি বিক্রেতারা কেন শেয়ার নিতে রাজি হবেন,যেখানে তারা সাধারণত আরও বেশি নগদ টাকা দাবি করতে পারেন।
তবে এই নীতির সাফল্য নির্ভর করবে এমন ধরনের নীতিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার পরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, তার সরকার শিল্পের জন্য সরাসরি জমি কিনবে এবং তা বেসরকারি সংস্থাকে হস্তান্তর করবে।
নবান্নের এক উচ্চপদস্থ আমলা জানিয়েছেন, “নতুন সরকার শীঘ্রই তার খসড়া শিল্পায়ন নীতি জনসমক্ষে আনবে এবং সবার পরামর্শ চাইবে।” তিনি আরো জানিয়েছেন,”শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জমি নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক অর্থে একটা বাস্তবায়ন করাটাও জরুরী। সেই পথেই নতুন সরকার হাঁটছে।”বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার একটি পরিবর্তিত ল্যান্ড পুলিং ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে আগ্রহী।নীতির রূপরেখা দিয়েছেন তা গুজরাট বা অন্ধ্রে গৃহীত ল্যান্ড পুলিং ব্যবস্থার চেয়ে কিছুটা আলাদা। সেখানে কৃষকরা উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছায় তাদের জমি দিয়েছিলেন এবং তার বিনিময়ে অন্য জমি পেয়েছেন।
নবান্ন সূত্রে খবর, বাংলায় এই ব্যবস্থাটিকে কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে কারণ বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য জমির প্রয়োজন। ইচ্ছুক কৃষকরা তাদের জমির বাজারমূল্য এবং সেখানে গড়ে ওঠা শিল্পগুলোর শেয়ারের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ পেতে পারেন।”এটি তাদের নিয়মিত আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করবে। ” উল্লেখ্য গুজরাট এবং অন্ধ্রের মতো রাজ্যগুলোতে জমির জোত অনেক বড়, কিন্তু বাংলায় জমির জোত খুবই ছোট।
“বড় শিল্পের জন্য বিশাল পরিমাণ সংলগ্ন জমির প্রয়োজন হয়। নয়া নীতিতে বড় সংখ্যায় জমি নেওয়ার ব্যাপারে সুবিধা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে” আরো খবর কে জানিয়েছেন নবান্নের এক কর্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিল, শিল্পের জন্য জমির ক্ষেত্রে অনেকটাই হস্তক্ষেপ না করার নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু নতুন সরকার জমি নীতির ব্যাপারে “ল্যান্ড পুলিং” এর কথাই ভাবছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।





