রাজ্যের খবর

বহরমপুরে তৃণমূল যুব-নেতার বাড়িতে চলল বুলডোজার

একই সঙ্গে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর ক্যাফেও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Truth of Bengal: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বহরমপুরে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী যুব নেতার বিতর্কিত বাগানবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। শনিবার সকালে বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর ক্যাফেও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমার দুর্গানাথ লেনের বাসিন্দা পাপাই ঘোষের স্ত্রী তথা মনিন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা ঘোষের নামে সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ লাগোয়া এলাকায় একটি বাগানবাড়ি ছিল। অভিযোগ, বহরমপুর শহর তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি পাপাই ঘোষ ওই বাগানবাড়ি থেকেই বিভিন্ন সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাগানবাড়িতে দিনরাত লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকত। প্রায়শই সেখানে মদ-মাংসের আসর এবং পিকনিকের আয়োজন করা হত, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের, যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল।

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সুড়সুড়ি মাঠ সংলগ্ন ওই জমির আসল মালিক হাওড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড সেখানে শিশুদের জন্য একটি উদ্যান গড়ে তোলে। অভিযোগ, পরবর্তীতে পুরসভা তৃণমূলের দখলে আসার পর পাপাই ঘোষ ভুয়ো ও জাল দলিলের মাধ্যমে ওই জমির একটি অংশ দখল করে সেখানে বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন। এই জবরদখলের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি আদালত মামলাকারীদের পক্ষে রায় দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার সকালে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ বাগানবাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর উমা ঘোষের স্বামী মিন্টু ঘোষের একটি ক্যাফেও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস কাউন্সিলর হিরু হালদার দাবি করেন, তৃণমূলের একাংশের মদতেই ওই জমি দখল করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

 

Related Articles