রাজ্যের খবর

শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতার সঙ্গে সিইও-র ছবি, তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিল বিজেপি

তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরণের পক্ষপাতিত্বের চিত্র দেখা গিয়েছিল।

Truth Of Bengal: ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা তথা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ তপন কুমার মহাপাত্রের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের একটি ছবি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে অভিযোগ করে তৃণমূল।

দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির ‘দলদাসের’ মতো ভূমিকা পালন করছে। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরণের পক্ষপাতিত্বের চিত্র দেখা গিয়েছিল। কুণাল ঘোষের সাফ কথা, অন্য রাজ্যের বিজেপি ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের প্রশাসনের মুখ করে বসিয়ে ভোটে কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব করেও লাভ হবে না দাবি করে তিনি জানান, তৃণমূল এবার ২৫০-এর বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।

তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসায় যে সমস্ত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা খু*ন হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো বা তাঁদের সঙ্গে দেখা করা কোনো অপরাধ নয়। বিজেপির প্রশ্ন, “খু*ন হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবারের কাছে কি কোনো সাংবিধানিক পদাধিকারী যেতে পারবেন না?” শাসকদলের অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি পালটা দাবি করেছে যে, তৃণমূল হারের ভয়েই এখন কমিশনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এই টানাপড়েনের মাঝেই তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন যে, তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওপর। বিশেষ করে আগামী ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে জোড়াফুল শিবির। তাঁদের আশা, আদালত এমন ব্যবস্থা নেবে যাতে বাংলার প্রতিটি বৈধ ভোটার নির্ভয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোটের নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই কাদা ছোড়াছুড়ি বঙ্গ রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Related Articles