রাজ্যের খবর

‘এআই ভিডিওর ফাঁদে পা দেবেন না’, জঙ্গিপুর থেকে হুমায়ুন-বিতর্কে মুখ খুললেন মোদী

শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টিকে ‘এআই প্রযুক্তির কারসাজি’ বলে চিহ্নিত করেছেন

Truth Of Bengal: ভোটমুখী বাংলায় ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ক তথা ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে যখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই এই বিতর্কে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে নির্বাচনী প্রচার সভায় দাঁড়িয়ে মোদী কার্যত হুমায়ুনের সুরে সুর মিলিয়েই দাবি করলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিওর মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষ যেন এই ধরনের এআই ভিডিওর ফাঁদে পা না দেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের একটি ১৯ মিনিটের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে এক হাজার কোটি টাকার গোপন রফা করেছেন তিনি। ওই ভিডিওতে হুমায়ুনকে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শোনা গিয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী দফতর এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গও উঠে আসে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছেন হুমায়ুন। তবে এদিন মোদী ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটিকে আধুনিক প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। উল্লেখ্য, মোদী সরাসরি হুমায়ুনের নাম না নিলেও তাঁর বক্তব্য যে এই বিশেষ বিতর্ককে উদ্দেশ্য করেই ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো দ্বিমত নেই।

অন্যদিকে, এই ইস্যুতেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, যারা পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ গড়তে চায়, তাদের সঙ্গে বিজেপির আদর্শগত মেলবন্ধন অসম্ভব। শাহের মতে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক স্বার্থে এহেন হাজারো জাল ভিডিও তৈরি করতে পারেন। হুমায়ুন কবীর নিজেও এই ভিডিওটিকে ভুয়ো বলে দাবি করে শাসকদলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টিকে ‘এআই প্রযুক্তির কারসাজি’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

জঙ্গিপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, যে ভিডিও ক্লিপটি ঘিরে বিতর্ক, তাতে প্রধানমন্ত্রী দফতরের নাম জড়িয়ে বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। মোদী এদিন সরাসরি জনতাকে এই ধরনের প্ররোচনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তৃণমূলের আনা অভিযোগের ধার কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। ফলে ভোটের বাজারে হুমায়ুন কবীরের ‘গোপন ডিল’ বিতর্ক এখন প্রযুক্তি বনাম অভিযোগের দ্বন্দ্বে নতুন মোড় নিল।

Related Articles