কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় বড় ধাক্কা! চিরকালের মতো বন্ধ সিঁদুর খেলা
অশৌচ ও বিষাদের আবহে পুজো রাজপরিবারে! পুরোহিতের নামে সংকল্প করে কোন নিয়মে হচ্ছে দেবী আরাধনা?
মাধব দেবনাথ, নদিয়া: ঐতিহ্যবাহী নদিয়ার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজোয় এবার আনন্দের মাঝেও নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। রাজপরিবারে সম্প্রতি শোকের ছায়া নেমে আসায় ও কালশৌচ চলায় এই বছরের দুর্গাপুজো কিছুটা অনাড়ম্বরভাবেই উদযাপিত হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজবাড়ির বধূ তথা ‘রানিমা’ অমৃতা রায় জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর প্রয়াণের কারণে এবার রাজবাড়ির পূজায় জৌলুস ও উৎসবের আড়ম্বর অনেকটাই কাটছাঁট করা হয়েছে। আর এর মধ্যেই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও আবেগঘন সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি ঘোষণা করেছেন এবার থেকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে বিজয়া দশমীর ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
রানিমা অমৃতা রায় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, সিঁদুর খেলা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হলেও নিয়তির বিধানকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে উৎসবের জৌলুস কমলেও পুজোর কোনও মাঙ্গলিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। অমৃতা রায় জানান, রাজবাড়ির নিয়ম মেনে প্রতিপদ থেকেই হোমকুণ্ডে অগ্নি প্রজ্বলন করা হয়েছে, যা নবমী পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন হোমে ভোগ নিবেদন করা হবে। যেহেতু পরিবারের সদস্যদের অশৌচ রয়েছে, তাই এবার পুজোর সমস্ত সংকল্প রাজপরিবারের বদলে পুরোহিত মশাইয়ের নামে সংকল্প হচ্ছে।
পুজোর অন্যান্য উপচারের বিষয়ে তিনি জানান, ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও পাটায় ওঠার মাধ্যমে মূল পর্ব শুরু হয়। সপ্তমী ও অষ্টমীর বিশেষ ভোগে খিচুড়ি, লুচি এবং নানারকম ভাজার নৈবেদ্য থাকে। দেবী মহামায়াকে প্রাচীন প্রথা মেনে মাছের ভোগও নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া রাজবাড়ির প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী শত্রু বধ ও যাত্রামঙ্গলের মতো আচারগুলি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে।
নদিয়াবাসীর প্রতি গভীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রানিমা বলেন, ব্যক্তিজীবনে মানুষ থাকুক বা না থাকুক, রাজবাড়ির প্রতিমা যেন যুগ যুগ ধরে আসেন এবং নদিয়াবাসীকে আশীর্বাদ করেন। সব মিলিয়ে, শতাব্দী প্রাচীন এই দুর্গোৎসবে আচার-অনুষ্ঠান বজায় থাকলেও সিঁদুর খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন অধ্যায়ের অবসান ঘটল।






