গার্লস কলেজের হস্টেলের খাবারে মেশানো হল বিষাক্ত মাদক! অসুস্থ অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে একটি ছাত্রীনিবাসে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ
Truth of Bengal: রাতের খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ! কারও মাথা ঘুরছে, কেউ আবার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হস্টেলে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে একটি ছাত্রীনিবাসে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। হস্টেলের খাবারে মাদকজাতীয় কোনও পদার্থ মেশানো হয়েছিল বলে দাবি আবাসিক ছাত্রীদের। ঘটনায় অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে হস্টেলের এক রাঁধুনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় তফসিলি গার্লস হস্টেল। এখানে বহু ছাত্রী আবাসিক হিসেবে থাকেন। শনিবার রাতেও অন্যান্য দিনের মতো হস্টেলের রান্নাঘরে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই খাবার খাওয়ার পরেই ঘটে বিপত্তি। কিছুক্ষণের ব্যবধানে একাধিক ছাত্রী শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হস্টেলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেন নিরাপত্তারক্ষীরা। অসুস্থ ছাত্রীদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কী কারণে এতজন ছাত্রী একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য।
আবাসিক ছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, রাতের খাবারের পনিরের তরকারিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাদকজাতীয় কিছু মেশানো হয়েছিল। তাঁদের দাবি, খাবার খাওয়ার পর সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো বমি বা পেটের সমস্যা দেখা যায়নি। বরং অনেকেই অস্বাভাবিক ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলেন। আচরণেও নেশাগ্রস্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। যদিও খাবারে সত্যিই কোনও মাদকজাতীয় পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। হস্টেলের রান্নাঘরের বলে দাবি করা ওই ভিডিওতে এক রাঁধুনিকে খাবারের মধ্যে কিছু মেশাতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ফুটেজটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে ঠিক কী মেশানো হচ্ছিল এবং তার সঙ্গে ছাত্রীদের অসুস্থতার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। ছাত্রীদের দাবি, শনিবার রাতে পনিরের তরকারি খাননি তাঁদের দুই সহপাঠী। এমনকি হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষী ও সংশ্লিষ্ট রাঁধুনিও ওই পদ খাননি বলে অভিযোগ। তাঁদের কারও অসুস্থ হওয়ার খবর মেলেনি। অন্যদিকে, যাঁরা ওই তরকারি খেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি আবাসিকদের। এই বিষয়টিকেই সন্দেহের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন হস্টেলের ছাত্রীরা। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত রাঁধুনিকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। খাবারে কোনও ক্ষতিকর বা নেশাজাতীয় উপাদান ছিল কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য চিকিৎসা ও পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে গোটা ঘটনায় হস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এতজন ছাত্রী একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কেন সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়নি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সেই মুহূর্তে তাঁদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য ছিল অসুস্থ ছাত্রীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসার ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। হস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রাতের খাবার খাওয়ার পর এতজন ছাত্রী একই ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন কেন? এটি কি সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? খাবারে মাদক মেশানোর অভিযোগের সত্যতা কতটা, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।






