রাজ্যের খবর

Hargauri Puja: দেবী এখানে দশভুজা নন, পূজিত হন হরগৌরী রূপে!

অত ভোরে দেবদেবীর কাঠামোকেই বা রেখে যাবে! তা নিয়ে সন্দিহান হলেও কোনও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Truth of Bengal: দেবী এখানে দশভুজা বা মহিষাসুরমর্দিনী নন, দেবী আসেন স্বামী শিবের সাথে হরগৌরী রূপে। বিশ্বাস করা হয়,দুর্গাপুজোর মাস দুয়েক আগে ভোরবেলা বাড়ির দালান পরিষ্কার করছিলেন শ্রীমানী বাড়ির গৃহবধূ। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে একটি হর গৌরীর কাঠামো। অত ভোরে দেবদেবীর কাঠামোকেই বা রেখে যাবে! তা নিয়ে সন্দিহান হলেও কোনও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর পর সেখানে শ্রীমানী বাড়ির বধূ ওই কাঠামো ঘরে নিয়ে এসে রাখেন। তাই দিয়ে শুরু হয় মূর্তি গড়া। সেই থেকেই শুরু দুর্গাপুজো। শ্রীমানী বাড়ির দুর্গাপুজো অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা। কারণ এই বাড়িতে মা দশভুজা নন,দেবী আসেন স্বামী শিবের সঙ্গে হরগৌরী রূপে। হরগৌরীর মূর্তি এখানে পুজো করা হয় সন্তানদের মতো।অষ্টমীতে কুমারীর পাশাপাশি দেবী পূজিত হন ।কুমারী পুজোয় সধবদেরও পুজো করা হয় (Hargauri Puja)।

হাওড়ার প্রাচীন বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মাকড়দহের শ্রীমানী বাড়ির পুজো। প্রায় ১০৬ বছর ধরে মা দুর্গা পূজিত হন ওই বাড়িতে। শ্রীমানী বংশের অন্যতম প্রধান পূর্বপুরুষ কেদারনাথ চিনির ব্যবসায়ী ছিলেন প্রথম জীবনে। পরবর্তী কালে ঘিয়ের ব্যবসাতেও সুনাম অর্জন করেন। আড়েবহরে জৌলুস বাড়ে দুর্গাপুজোর। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে এই পুজো। নানা গল্প, কিংবদন্তী আর ইতিহাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। শ্রীমানি বাড়িতে পুজো শুরু হয়েছিল ১৯১৮ সালে। এ বছরে পুজো ১০৭ বছরে পদার্পণ করল। পুজোর ইতিহাস সম্বন্ধে বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের থেকে জানা যায়, বাড়ির পূর্বপুরুষ বিশ্বনাথ শ্রীমানি ও হরিপদ শ্রীমানি দুই ভাই তখন সবে উঠতি ব্যবসায়ী। তাঁদের ছিল মুড়ির ব্যবসা। ১৯১৮ সাল নাগাদ মুড়ির ব্যবসার সাথে চিনি ও ঘি-এর ব্যবসায়ে সদ্য তাঁরা ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন (Hargauri Puja)।

এমন সময় এক ভোরে বাড়ির বড় ছেলে বিশ্বনাথ শ্রীমানির প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাড়ির সদর দরজা খুলে ঝাট দিতে গিয়ে দেখেন বাড়ির সদর দরজার সামনে বসানো দেবী প্রতিমার কাঠামো। হই চই পড়ে যায় গোটা বাড়ি জুড়ে। সাক্ষাৎ দেবী নিজেই চান তাঁর পুজো হোক বাড়িতে এইভেবে বাড়ির বড় ছেলে সেই কাঠামো নিয়ে আসেন বাড়ির ভিতরে। পরে সেই কাঠামো অনুযায়ী মৃৎশিল্পীদের দিয়ে প্রতিমা গড়ালে তা রূপ নেয় হরগৌরীর।সেই থেকেই হরগৌরী রূপেই দেবী দুর্গা পুজিত হয়ে আসছেন এখানে। নবমীর দিনে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে কাদামাটি খেলার ও সন্ধিপুজার পর ধুনো পড়ানোর রীতি ছিল। তবে কালের নিয়মে সেই সব এখন বন্ধ হয়ে স্মৃতির পাতায় স্থান পেয়েছে। প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে বাঁশ পুজো করে সূচনা হয় প্রতিমা গড়া। ষষ্ঠীর দিন বেলগাছে পুজো দিয়ে শুরু হয় দেবীর বোধন। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান করিয়ে করা হয় দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। ২০১৮ সালে শতাব্দী পেরোয় এই পুজো।সেই বছর ১০৮ প্রদীপ জ্বেলে ১০৮ জন মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পুজো করা হয় (Hargauri Puja)।

Related Articles