অষ্টমীতে ‘ড্রাই ডে’, তবুও পুজোয় মদ বিক্রিতে রেকর্ড! এগিয়ে কোন জেলা?
এবারের দুর্গাপুজোয় অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলেও বিক্রির পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ধরা পড়ল
Truth of Bengal: উৎসবের মরশুমে মদ বিক্রি বাড়ে, এমন ছবি প্রতি বছরই দেখা যায়। তবে এবারের দুর্গাপুজোয় অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলেও বিক্রির পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ধরা পড়ল। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজোর ছ’দিনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার। গত বছরের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। জেলা আবগারি দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় এই জেলায় মদ বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ না থাকলে বিক্রির অঙ্ক ৬০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারত। অর্থাৎ, একদিন দোকান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পুজোর কয়েক দিনে মদের বিপণনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, শুধু মোট বিক্রির অঙ্কেই নয়, বিভিন্ন ধরনের মদের বিক্রিতেও বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। গত বছর পুজোর সময়ে বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছিল ২ লক্ষ ২৮ হাজার লিটার। এবার সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ১৩ হাজার লিটার। দেশি মদের ক্ষেত্রেও বিক্রি বেড়েছে। ২০২৫ সালে পুজোর দিনগুলিতে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার দেশি মদ বিক্রি হয়েছিল। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার। অন্যদিকে, বিয়ারের বিক্রিও বেড়েছে, যদিও বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক কম। গত বছর দুর্গাপুজোয় ৩ লক্ষ ১০ হাজার লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ২৪ হাজার লিটার।
পূর্ব মেদিনীপুরে মদ বিক্রির এই বৃদ্ধির পিছনে পর্যটকদের ভিড়কে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। দিঘা, মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র থাকায় সারা বছরই এই জেলায় পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। দুর্গাপুজোর ছুটিতে সেই ভিড় আরও বেড়েছিল। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বেড়াতে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব মদের বিক্রিতেও পড়েছে বলে অনুমান ব্যবসায়ী মহলের।






