রাজ্যের খবর

পুজোয় বৃষ্টিতে ভাসবে বাংলা? মনখারাপের খবর দিল আবহাওয়া দফতর

আন্দামানে আবার দানা বাঁধছে নিম্নচাপ! সপ্তমী পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে ভাসবে বাংলা?

Truth of Bengal: গত কয়েক দিন ধরে কখনও চড়া রোদ, আবার কখনো হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি, আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালি মেজাজে পুজো আসার আগেই চরম অস্বস্তিতে আমজনতা। পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঠাকুর দেখার প্যান্ডেল হপিংয়ের রূপরেখা, সবই প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বাঙালিরা। কিন্তু আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখে সকলের মনেই এখন একটাই বড় প্রশ্ন, উৎসবে জল ঢেলে দেবে না তো বৃষ্টি? সেই আশঙ্কার আগুনে ঘি ঢেলে হাওয়া অফিস জানাল মনখারাপের খবর। বঙ্গোপসাগরে ফের এক নতুন নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার জেরে পুজোর দিনগুলিতে জলছবি হতে পারে তিলোত্তমা-সহ গোটা বাংলা।

বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো কেবল একটি উৎসব নয়, এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার উদযাপন। মাসের পর মাস ধরে জামাকাপড় কেনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা চলতে থাকে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। বিশেষ করে গত বছর পুজোর দিনগুলিতে অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে ভেসেছিল মহানগরী সহ বিভিন্ন জেলা। মণ্ডপের চতুর্দিক জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় পুজোর আনন্দে বড়সড় ভাটা পড়েছিল। এবারও কি সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে?

আবহাওয়া দফতরের দেওয়া সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী রবিবার আন্দামান সাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে চলেছে। এটি ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হলে তার প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির মাতম শুরু হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়, বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলে তুমুল ঝড়বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পুজোর প্রথমার্ধেই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের বেশ ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

তবে আবহাওয়াবিদরা সাধারণ মানুষকে কিছুটা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি কতটা শক্তিশালী হবে এবং তার গতিপথ ঠিক কোন দিকে থাকবে, তা রবিবার সিস্টেমটি তৈরি হওয়ার পরেই স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর এটাই যে, শনিবার মহালয়ার দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে এবং বড় কোনও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে দেবীপক্ষের সূচনায় তর্পণ ও কেনাকাটায় কোনও বিঘ্ন ঘটবে না। তবে পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত বৃষ্টির মেঘ মাথার ওপর নাচতে থাকায় পুজোর দিনগুলোর পরিকল্পনা নিয়ে আপাতত উদ্বিগ্ন গোটা বাংলা।

Related Articles