বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়া ব্রিজে হয়নি সংস্কার, চিন্তায় আমজনতারা
Collapsed bridge in Bankura not repaired, residents worried
Truth Of Bengal: বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ব্লকের দ্বারিকা গোসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষপল্লী গ্রামে বিড়াই নদীর উপর থাকা কংক্রিটের ব্রিজ ভেঙে পড়ে রয়েছে প্রায় দু’বছর ধরে। নদীর প্রবল স্রোতে সেই ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলন্ত ব্রিজের উপর দিয়ে পারাপার করতেন। প্রশাসনের একাধিকবার পরিদর্শন সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত মেরামতের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিশেষ করে এখন ঐতিহাসিক ষড়েশ্বরের গাজন উৎসবের কারণে এই ব্রিজ দিয়ে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে পাঁচগুণ। ফলে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, মোটরসাইকেল ও টোটোও এই ঝুলন্ত ব্রিজ পার হচ্ছিল। তবে চারচাকা গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স চলাচল একেবারেই অসম্ভব ছিল।
অবশেষে, অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মাটি ও বাঁশ খুঁটি দিয়ে এই ব্রিজ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের অস্থায়ী সংস্কারে কোনও স্থায়ী সমাধান হবে না, বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই ব্রিজের ওপর নির্ভরশীল তিন-চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এই অঞ্চলের মানুষ মূলত কৃষিজীবী। কৃষিজাত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে ঘুর পথে যেতে হচ্ছে, যার ফলে সময় এবং খরচ— দুইই বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের ফসল। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা।
এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের সাফাই, “আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে এই ব্রিজ মেরামতের দাবি জানিয়েছি। অস্থায়ীভাবে মাটি দিয়ে ব্রিজ সংস্কার করা হয়েছে যাতে আপাতত গাজনের সময় মানুষ কিছুটা হলেও যাতায়াত করতে পারেন। স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা উপরের দপ্তরে বিষয়টি তুলে ধরেছি।” তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে, না হলে বড় দুর্ঘটনা যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে।
প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে এলাকার মানুষকে। এই মুহূর্তে সুভাষপল্লী ও আশপাশের গ্রামের মানুষের কাছে একটাই দাবি— স্থায়ী সমাধান। শুধু সেফটি নয়, এলাকার অর্থনীতি, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত ব্রিজ মেরামতের কাজ শুরু করুক প্রশাসন, এই প্রত্যাশায় দিন গুনছেন সকলে।






