ছট পুজো ঘিরে বালুরঘাটে তৎপর প্রশাসন, নিরাপত্তা ও আলোতে মুড়ল আত্রেয়ীর ঘাট
পরিদর্শনে এলেন ডিএসপি
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: সামনে অবাঙালি সমাজের অন্যতম বড় উৎসব — ছট পুজো। সূর্য দেবতার আরাধনায় আগামীকাল থেকেই শুরু হবে চারদিনব্যাপী এই মহাউৎসব। প্রতিবছরের মতোই বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী নদীর বিভিন্ন ঘাটে উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও নির্বিঘ্ন উৎসব নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই তৎপর প্রশাসন। শনিবার সকালে ছট পুজো উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন ঘাটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নিজে হাজির হন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) বিক্রম প্রসাদ।
আরও পড়ুনঃ ফের চলন্ত বাসে আগুন! উত্তরপ্রদেশে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ৩৯ যাত্রী
এদিন সকাল থেকেই ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ বালুরঘাটের সদরঘাট, খিদিরপুর ঘাট ও কংগ্রেস ঘাট পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরাও। তিনি প্রতিটি ঘাটের নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিএসপি বলেন, “নদীতে এ বছর জল কিছুটা বেশি থাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে সিভিল ডিফেন্স কর্মী, স্পিডবোট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র থাকবে। পাশাপাশি প্রচুর পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ার মোতায়েন থাকবে।”
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এ বছর ছট পুজোর দিন বালুরঘাট শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও থাকবে কঠোর নজরদারি। বিশেষত সদরঘাট ও খিদিরপুর ঘাটের আশেপাশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি থাকবে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ, বালুরঘাট পৌরসভা ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে এ বছর নদী ঘাটগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
এছাড়াও, প্রতিটি প্রধান ঘাটে মেডিকেল সহায়ক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় এই বুথগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা থাকবে। উৎসবে যাতে কোনওরকম দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।
এদিকে, বালুরঘাট পৌরসভার পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। পৌরসভা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও যাতে জল জমে না থাকে বা কাদা তৈরি না হয়, তার জন্যও বিশেষ পরিষ্কার অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে। ঘাটে আগত পুণ্যার্থীদের সহায়তায় থাকবে তাঁদের বিশেষ দল।
প্রতিবছরই ছট পুজোর সময় বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর ঘাটগুলিতে হাজার হাজার ভক্ত একত্রিত হন। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় ভক্তরা নদীর জলে দাঁড়িয়ে সূর্য দেবতাকে অর্ঘ্য নিবেদন করেন। সেই ভিড় সামাল দেওয়া প্রয়োজন। তাই জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা এ বছর বেশি থাকবে।
সর্বোপরি, আলো, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, জল ও ট্রাফিক—সবদিক থেকেই প্রস্তুত বালুরঘাট। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবারের ছট পুজো, এমনটাই আশা দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীর।






