”তুই মরতে পারিস তো…”, বলেই সন্তানদের সামনে স্ত্রী’র গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল স্বামী…
রূপালির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নলহাটি ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
Truth Of Bengal: মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সেই নির্যাতন যে এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। বীরভূমের নলহাটিতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই গৃহবধূ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত গৃহবধূর নাম রূপালি লেট। অভিযোগ, সোমবার রাতে তাঁর স্বামী দীপঙ্কর লেট মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ঝামেলা শুরু করেন। ওই সময় স্ত্রী ও দুই সন্তান ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে আচমকাই তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রূপালির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নলহাটি ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর নলহাটি থানার পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী দীপঙ্কর লেটকে আটক করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত গৃহবধূর আত্মীয়রা।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত দীপঙ্কর লেট প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন এবং স্ত্রীকে মারধর ও হুমকি দিতেন। ওই রাতেও একই ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটে বলে দাবি।
ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা দুই মেয়ে জানিয়েছে, তাদের বাবার আচরণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় তাদের মায়ের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন। তারা আরও বলে, মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে বাবা মাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুই মরে যা, তুই মরতে পারিস না…’ এরপরই মায়ের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়।
এছাড়াও আহত রূপালির আত্মীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা কয়েকজন পরিবারের সদস্য কোনওভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেননি। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীরাই এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।






