রাজ্যের খবর

৪০০ বছরের পুরনো কালীপুজোয় রয়েছে বঙ্কিম সাহিত্যের ছোঁয়া

kalipujo 2023

The Truth of Bengal: কোথাও থিম কোথাও আবার সাবেকিয়ানায় পুজো হয় কালীর। আর কিছু পুজোর ধর্মীয় মাহাত্ম্য ভক্তমহলে ভাবগম্ভীর আবহ তৈরি করে। ধুম লেগে যায় ঐতিহ্যবাহী পুজো ঘিরে। সেরকমই একটি পুজো হল মালদার রতুয়ার গোবরজনার কালীমাতার আরাধনা। জনশ্রুতি রয়েছে, ভবানী পাঠক কালিন্দ্রী নদী দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ নদীতে জল বেড়ে যায়। সেই সময় তাঁর বজরা নদী তীরবর্তী এলাকায় থামে। সেখানেই রাতে থেকেছিলেন তিনি। কথিত রয়েছে ভবানী পাঠক নাকি সেই সময় স্বপ্নাদেশ পান মা কালীর পুজো করার জন্য।

কিন্তু সেই সময় সেখানে মাটি পাওয়া যায়নি। তাই তার পরিবর্তে গোবর এবং জনা অর্থাৎ ধানের তুষ দিয়ে মূর্তি গড়ে পুজো শুরু হয়। তার ফলেই এই এলাকার নাম হয় গোবরজনা। আরও একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। এক সময় এই এলাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু এলাকায় কলেরার দাপট দেখা গিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের। তখনই সেখানে ওই বিপদ থেকে বাঁচার আর্তিতে মা কালীর পুজো শুরু হয়। তারপর থেকে নিয়ম মেনে এই পুজো হয়ে আসছে। কিন্তু ঠিক কবে এই পুজোর সূচনা, তা সকলের কাছেই অজানা।

নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হন গোবরজনা কালীমাতা। গোবরজোনা কালীবাড়ির সেবাইত   জানিয়েছেন, এই গোবরজোনা কালী পুজো করে আসছেন চৌধুরী পরিবার। পুরনো রীতি মেনেই কালীপুজোর দিন কাঁধে করে নিয়ে মন্দিরের নিয়ে আসেন মাকে। তারপর পুজপাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এরপর শুরু হবে বলি।স্থানীয় প্রবীনদের কথায় , গোবরজনা শ্মশানে একটা সময় নাকি সিদ্ধপুরুষ মাধব সন্ন্যাসী যিনি ঘন্টি বাবা  নামে পরিচিত,তিনি  মহাদেব এবং কালীমায়ের দর্শন পেয়েছিলেন।ঘন্টি বাবা দেহত্যাগ করার পরে তার নামেই মন্দির এবং একটি মূর্তি ও তৈরি করেছেন ভক্তেরা।আগামীদিনে পরম্পরা মেনে এই পুজো চলমান ধারা বজায় রাখবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের।

Free access

Related Articles