Internet Addiction Disorder: ইন্টারনেটে আসক্তি? এই ৫ উপায়ে কাটানো যায় ডিজিটাল অ্যাডিকশন
Internet Addiction Disorder: Addicted to the Internet? These 5 Ways to Beat Digital Addiction

The Truth Of Bengal: আজকের যুগকে এক কথায় বিশ্লেষণ করতে গেলে ডিজিটাল যুগ বলাই যায়। যেখানে ইন্টারনেট সকলের দৈনন্দিন জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অফুরন্ত তথ্য থেকে রাজনীতি, বিনোদন, খেলার দুনিয়া এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় মুহুর্তের মধ্যে পাওয়া যায় একেবারে হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ইন্টারনেট সংযোগ ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে একটি আসক্তি হয়ে উঠছে। আর এর নাম IAD বা ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার। এই ডিসঅর্ডার আসলে অত্যাধুনিক ইন্টারনেটের অত্যাধিক ব্যবহার যা দৈনন্দিন জীবন কাজ এবং বিভিন্ন সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু জানেন কি আদৌ এই ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার কী?
ইতি এমন একটি আসক্তি যা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন নিয়ন্ত্রণের সীমা মানে না। হলো তো জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। অন্যান্য ধরনের আসক্তি যেমন জুয়া, তামাকজাত দ্রব্য, কিংবা মদ যেমন ব্যক্তির শরীর, মন, মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে ঠিক তেমনি এই ডিসঅর্ডারটিও মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর খুব সাধারণ লক্ষণ হল অনলাইনে অত্যাধিক সময় কাটানো, নিজের বিভিন্ন দায়িত্বকে অবহেলা করা ইন্টারনেটের জন্য, এবং বাস্তব জীবনে বেঁচে থাকার নানান উপায় হিসেবে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করা।
তবে আপনি চাইলেই এই ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। জেনে নিন তার পাঁচটি উপায় –
১) সমস্যা সনাক্তকরণ – IAD কাটিয়ে ওঠার প্রথম ধাপটি হলো ইন্টারনেট সম্পর্কিত আপনার যে সমস্যা আছে সেটা স্বীকার করুন। এবং এই ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে আপনার ব্যক্তিগত জীবন থেকে কর্মজীবন এমনকি দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্পর্ক গুলিতে ঠিক কি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সেটিকে মূল্যায়ন করুন।
২) সীমা নির্ধারণ করুন – আপনি ঠিক কতক্ষণ সময় পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন তার একটি স্পষ্ট সীমা বেঁধে দিন। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য দিনে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন। নিজের বেছে দেওয়ার সীমাকে মেনে চলুন।
৩) অফলাইনে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হন – ইন্টারনেটে জড়িত থাকা ছাড়াও আপনারা যে বিভিন্ন শখগুলি রয়েছে সেগুলি পূরণ করার চেষ্টা করুন। সেটি বই পড়া হতে পারে, সিনেমা দেখা, ব্যায়াম করা, কিংবা বাগান তৈরি করা। এমন বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত হন যেগুলি আপনার মন এবং মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে। পরিবারের সাথে সময় কাটান এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবারকে সময় দিন।
৪) থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন – পরিবারের মানুষ এবং বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা চাইতে পারেন। একজন থেরাপিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করে নিজের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তার সাথে ইন্টারনেট ব্যবহার কিভাবে আপনি নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করুন।
৫) স্বাস্থ্যকর রুটিন তৈরি করুন – একটি গোটা দিন কে স্বাস্থ্যকর রুটিনে বেঁধে দিন। সকালে উঠে মেডিটেশন কিংবা যোগ ব্যায়াম করুন। তারপর আপনার কাজ বা অধ্যায়নের সময় থাকলে সেটা করুন। এরপর ঘরের বিভিন্ন কাজের সাথে নিজেকে বেঁধে ফেলুন। মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে বিরতি দিন নিজের মস্তিষ্ককে।
IAD যে কোন মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সকলের উচিত খুব সক্রিয়ভাবে এই বিষয়টি ভেবে দেখা। উপরে যে পাঁচটি উপায়ে বর্ণনা করা হলেও সে গুলির মাধ্যমে নিজের জীবনকে স্বচ্ছ ভাবে গড়ে তোলা।





