হাতে আর একটা ম্যাচ, বাজবল নিয়ে ডেডলাইন বেঁধে দিলেন প্রাক্তনী
ভনের বক্তব্য, ওই এক ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে পারবে না।
Truth Of Bengal: অ্যাশেজ সিরিজে লজ্জার হারের পর ইংল্যান্ডের বহুচর্চিত ‘বাজবল’ –এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠল। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনের কড়া মন্তব্যে স্পষ্ট—হেড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের হাতে কার্যত আর একটিই সুযোগ। সিডনি টেস্টে চমকপ্রদ কিছু করতে না পারলে দায়িত্ব ছাড়তে হতে পারে ম্যাকালাম বা স্টোকস—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভন।অ্যাশেজ সিরিজে বর্তমানে ১–৩ পিছিয়ে ইংল্যান্ড। অ্যাডিলেড টেস্ট জিতেই মাত্র ১১ দিনের মধ্যে সিরিজ নিজেদের দখলে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। যদিও মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট জিতে কিছুটা সম্মান রক্ষা করেছে স্টোকসের দল। এটি ছিল ৫৪৬৮ দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট জয়। তবে এই জয়কেও খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না ভন।ভনের মতে, মেলবোর্ন টেস্ট ছিল লটারির মতো।
তাঁর দাবি, সেটিকে পুরোপুরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টেস্ট ম্যাচ বলা যায় না। ভনের বক্তব্য, ওই এক ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে পারবে না। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সত্যিকারের লড়াই করে ম্যাচ জিতেই নিজেদের প্রমাণ করতে হবে স্টোকসদের। ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘বাজবল’ শব্দটি ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। ঝড়ের গতিতে রান তোলা, আক্রমণাত্মক মানসিকতায় ক্রিকেট খেলা—এই দর্শনেই গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি দলকে চাপে ফেলেছে ইংল্যান্ড। তবে সমস্যা হচ্ছে, এই কৌশল ছোট বা তুলনামূলক দুর্বল দলের বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়ছে।
অ্যাশেজের প্রথম তিনটি টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার মানতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। ফলে ম্যাকালাম ও স্টোকসের যুগলবন্দিতে তৈরি বাজবল কৌশল যে বর্তমানে ভোঁতা হয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন ভন। তাঁর মতে, বাজবলের ‘মৃত্যুঘণ্টা’ ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে।ভনের কথায়,আমার মনে হয় সিডনির ম্যাচটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যে কোনও ম্যাচ জেতাই জরুরি। কিন্তু মেলবোর্নের জয়টা লটারি ছাড়া আর কিছুই না। এই ম্যানেজমেন্টকে টিকে থাকতে হলে একটা সঠিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ জিততে হবে। আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন,বাজ–বেনকে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে হলে এই সপ্তাহে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলতে হবে। আমি জানি সবাই বাজবলকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু সিডনিতে ভালো কিছু না হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যাবে—এটা নিশ্চিত।এখন সব নজর সিডনি টেস্টের দিকে। সেই ম্যাচেই হয়তো নির্ধারিত হবে—ইংল্যান্ড ক্রিকেটে বাজবলের অধ্যায় চলবে, না কি সেখানেই পড়বে তার যবনিকা।


