Jasprit Bumrah: বুমরাকে পুরো সিরিজ না পেলে ইংল্যান্ডে কি জেতা সম্ভব?
এরকম অবস্থায় সিরিজে ১-০ পিছিয়ে এজবাস্টনে খেলতে নামছে ভারত।
Truth of Bengal: যুধাজিৎ মুখোপাধ্যায়, বিসিসিআই কোচ, প্রাক্তন ক্রিকেটার: একটা হানড্রেড-ই লড়াই দেখলাম আমরা ভারত বনাম ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্টে। প্রথম ৪ দিনের বেশিরভাগ সময়ে ভারত মোটামুটি এগিয়ে থাকলেও ওস্তাদের মতই শেষ দিনে মেরে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেল তুলনামূলকভাবে বোলিং শক্তিতে অনেক অনভিজ্ঞ ইংল্যান্ড। এর মূল কারণ হিসেবে ডাকেট, পোপ, রুট, স্টোকসদের দুর্দান্ত ব্যাটিং মনে হলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা বিশেষ করে ১০-এরও কম টেস্ট খেলে আসা টং এবং কার্সেরাও ভারতীয় ব্যাটারদের বেঁধে রাখার জন্যে যথেষ্ট কৃতিত্ব দাবি করেন। উল্টোদিকে ভারতীয় দলে ব্যাটাররা দুই ইনিংসে ভাল রান করেও হেরেছেন। কারণ প্রয়োজনের সময়ে বুমরা ছাড়া কোনও বোলারই জ্বলে উঠতে পারেননি, এবং নেতৃত্ব ও ফিল্ডিংয়েও যথেষ্ট গাফিলতি দেখা গিয়েছে। এরকম অবস্থায় সিরিজে ১-০ পিছিয়ে এজবাস্টনে খেলতে নামছে ভারত। এই মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে ৭টি টেস্টে জিতেছে ইংল্যান্ড। তার মধ্যে একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। অতএব মানসিকভাবেও এগিয়ে থাকবেন রুট-স্টোকসরা।( Jasprit Bumrah)
[আরও পড়ুনঃ Domkal: ডোমকলে অস্ত্র উদ্ধার, বিহারের মুঙ্গের যোগসূত্রে চাঞ্চল্য, গ্রেফতার ১]
এরপর ভারতের সমস্যা আরও যেনো বাড়াতে ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ফিরে আসছেন দুরন্ত গতির আর্চার। যিনি ভারতের মাটিতে শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২১ সালে। এটা দেখার যে কিভাবে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালকরা আর্চারকে পরপর চোট পাওয়ার সমস্যা থেকে আস্তে আস্তে সারিয়ে এবং রিহ্যাব করে প্রথমে ২০ ওভার এবং তারপর ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে খেলিয়ে অবশেষে এখন আবার লাল বলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনলেন। এখানেই হয়তো ওদের সঙ্গে আমাদের শামি ও বুমরার রিহ্যাব-এর সঙ্গে কোথাও পার্থক্য আছে। নয়তো বারবার চোট পেয়ে ফিরে এসে ও যেমন শামী এখন এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলতে পারল না, তেমনি বুমরাকেও সিরিজের ৩টির বেশি ম্যাচ পাওয়া যাবে না। আর বুমরা না খেললে ভারতের কি অবস্থা হয় বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মত দেশগুলিতে তা সবারই জানা। বুমরা ২০১৮- তে টেস্ট খেলা শুরু করার পর থেকে (এসইএনএ) দেশগুলিতে ভারতের জেতার শতাংশ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে (১৬ থেকে ৩১ শতাংশ)। বুমরাকে সরিয়ে নিলে ভারতের বাকি পেসারদের মোট টেস্ট সংখ্যা ৫০-ও পেরোবে না এবং তাঁদের মধ্যে ম্যাচ জেতানো বোলার সেরকম কেউ নেই। তাই বলাই বাহুল্য এজবাস্টনের পিচে আরও বড় রান করে ভারতের ব্যাটারদের চাপে ফেলার জন্যে অপেক্ষা করে থাকবেন রুটরা।( Jasprit Bumrah)
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]
এরপর গত সফরে ভারতের বিরুদ্ধে ওখানেই ৩৭৮ রান তাড়া করে জিতেছে ইংল্যান্ড। তাই ইতিহাসও প্রবল ভাবে তাদের দিকেই। ভারতের যা রিজার্ভ বেঞ্চ, তাতে বিশেষ কেউ নেই এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। একমাত্র তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে কুলদীপ। এবং ২ স্পিনার নিয়ে খেলাটা একদিকে ভালোও হতে পারে কারণ এজবাস্টনে স্পিনাররা কিন্তু আগেও সাফল্য পেয়েছেন। তাই বুমরা খেলতে পারুক আর না পারুক ভারতকে ম্যাচ জিততে হবে। তার জন্যে ফর্মে থাকা ব্যাটারদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। যাতে রানের পাহাড় চাপানো যায়, যেটা পার করতে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞদেরও বেগ পেতে হবে। এবং আরও ভাল ফিল্ডিং ও বোলিং করতে হবে বুমরার সঙ্গী বোলারদেরও। বুমরা না খেললে যেমন অসুবিধে, তেমনি সুযোগও অনেক বেশি পাবেন অন্যরা। এরকম অবস্থাতেই কিন্তু নতুন নায়কের জন্ম হয়। যেমন ২০২১- এর অস্ট্রেলিয়া সফরে বিরাট- বুমরা না থাকা সত্ত্বেও প্রায় আধখানা দল নিয়ে পুরো শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে তাদের দেশেই হারিয়ে ফিরেছিল অজিঙ্কা রাহানের ভারত। সেইরকম একটা কিছু মিরাকেল-এর আশা নিয়ে চোখ রাখব এজবাস্টনে।( Jasprit Bumrah)
কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যায়, বুমরার চাপ কমাতে তাঁকে শুধু দেশের হয়ে কেনো কম ম্যাচ খেলানো হবে, অথচ আইপিএল-এ তাঁকে পুরোটাই ‘খেলতে দেওয়া’ হবে? দল আগে না দেশ আগে? দেশের হয়ে খেলতে সেকি ‘দায়বদ্ধ’ বা ‘চুক্তিবদ্ধ’ নয়? বিসিসিআই এ ব্যাপারে নীরব কেনো? দল না দেশ কোনটা আগে সেটা কিন্তু সাহেবরা কাজে করে দেখিয়ে দিচ্ছেন! তাই দেখার বিষয় আমরা কবে সে পথ অনুসরণ করব। না করলে লাল বলের ক্রিকেটে বারবার শূন্য হাতেই ফিরতে হবে।( Jasprit Bumrah)






