রাজ্যের খবর

আদালতে যাওয়ার পথে তুমুল বিক্ষোভ, তীর্থঙ্করকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম-হামলা!

দুপুরে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে

Truth of Bengal: একের পর এক গুরুতর অভিযোগের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। গ্রেপ্তারি এড়াতে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকলেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার ভোরে খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ লক-আপ থেকে তীর্থঙ্করকে বার করে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তাঁর দিকে ডিম ছোড়েন। ভিড়ের মধ্যে থেকে ‘মার ডিম’ স্লোগানও শোনা যায়। পুলিশ দ্রুত তাঁকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাংশের ক্ষোভ ছিল তীর্থঙ্করের বাবা নির্মল ঘোষকে নিয়েও। তাঁদের দাবি, শুধু ছেলেকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না, প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, তীর্থঙ্করের পরে এবার নির্মলের গ্রেপ্তারির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই পানিহাটির একাংশে ব্যান্ড বাজিয়ে নাচগান করতে দেখা যায় স্থানীয়দের। তাঁর বাড়ির সামনেও ভিড় জমে। অনেকের হাতে ডিমও দেখা যায়। তবে স্থানীয়দের অন্য একটি অংশের দাবি, এই বিক্ষোভ ও ডিম ছোড়ার সঙ্গে সাধারণ বাসিন্দারা যুক্ত নন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই এই কর্মসূচি করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। যদিও বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, নির্মল ঘোষ ও তীর্থঙ্করের দাপটে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিলেন। বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, ভয় দেখানো এবং বেআইনি কার্যকলাপের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তীর্থঙ্কর গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেলেও নির্মলকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পানিহাটিতে শান্তি ফিরবে না বলে দাবি করেছেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন তীর্থঙ্কর। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিজেপির রত্না দেবনাথ এবং সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত। তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারি নিয়ে দু’জনেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রত্না দেবনাথ বলেন, “কান টানলে মাথা আসে। কান ধরা পড়েছে, এবার আমরা মাথার অপেক্ষায় রয়েছি।” তাঁর ইঙ্গিত যে নির্মল ঘোষের দিকেই, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন, আইন আইনের পথে চলবে। তবে কেউ বিজেপির ছাতার তলায় গিয়ে যেন আইনের হাত থেকে রেহাই না পান, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।” তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে ঠিক কোন মামলায় গ্রেপ্তারি হয়েছে এবং তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে পুলিশ কী যুক্তি দেয়, তা আদালতের শুনানিতেই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেদিকেও নজর রয়েছে পানিহাটির রাজনৈতিক মহলের।