Resignation: প্রথম বেতন পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ইস্তফা! HR-এর পোস্টে সোরগোল
তাঁর কথায়, “কোনও চাকরি ‘সহজ’ নয়। প্রতিটি পদে প্রতিশ্রুতি, ধৈর্য এবং প্রচেষ্টা লাগে। উন্নতি আসে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে।”
Truth Of Bengal: একজন ভারতীয় এইচআর-এর লিঙ্কডইন পোস্টকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক (Resignation)। পোস্টটিতে এমন এক কর্মীর কথা বলা হয়েছে, যিনি নাকি প্রথম বেতন পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পরই পদত্যাগ করেছেন। “সকাল ১০.০০ টায় বেতন ক্রেডিট, আর সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র,” এমনটাই জানিয়েছেন ওই এইচআর। তিনি উল্লেখ করেছেন, নতুন কর্মীকে অনবোর্ডিং এবং প্রশিক্ষণ দিতে এইচআর ও ট্রেনিং টিম যে সময় ব্যয় করেছিল, এই হঠাৎ প্রস্থান তাতে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
প্রথম বেতন পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ইস্তফা! HR-এর পোস্টে সোরগোল pic.twitter.com/60q5rgrEvT
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) August 10, 2025
পোস্টে ওই এইচআর পেশাজীবী এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তের (Resignation) নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “চলুন পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে কথা বলি। সংস্থা আপনাকে স্বাগত জানিয়েছে, বিশ্বাস করেছে, এবং বেড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছে। তারপর, প্রথম বেতন অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পর আপনি চলে গেলেন। এটা কি ন্যায্য? এটা কি নৈতিক?”
তিনি আরও লিখেছেন, শেষ মুহূর্তে পদত্যাগ (Resignation) প্রায়শই “উদ্দেশ্য, পরিপক্বতা ও দায়িত্ববোধের অভাব” প্রকাশ করে এবং খোলামেলা যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কিছু ঠিক না লাগত, আপনি বলতে পারতেন। পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাইতে পারতেন, সাহায্য চাইতে পারতেন। আপনি সচেতনভাবে বিদায় নিতে পারতেন, সুবিধামতো নয়।”
তার মতে, কোনও চাকরিই চ্যালেঞ্জবিহীন নয় এবং প্রকৃত পেশাগত উন্নতির জন্য শুধুমাত্র বেতন পাওয়াই যথেষ্ট নয়। তাঁর কথায়, “কোনও চাকরি ‘সহজ’ নয়। প্রতিটি পদে প্রতিশ্রুতি, ধৈর্য এবং প্রচেষ্টা লাগে। উন্নতি আসে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে।”
শেষে তিনি পেশাজীবীদের তাদের ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানান। পোস্টে লেখা ছিল, “তাই ‘সংস্কৃতি’ বা ‘রোল মিসম্যাচ’ নিয়ে অভিযোগ করার আগে থামুন, ভাবুন, কথা বলুন। কারণ শেষ পর্যন্ত আপনার পেশাদারিত্ব আপনার পদবী নয়, আপনার কাজ দিয়েই সংজ্ঞায়িত হয়।”
পোস্টটি দ্রুতই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বহু লিঙ্কডইন ব্যবহারকারী তাদের মতামত জানান। একজন মন্তব্য করেন, “ব্যক্তি ভুল নন, কিন্তু একজন এইচআর হিসেবে আপনার এই ধরনের বিষয় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা উচিত নয়। এটি স্পষ্টভাবে আপনার অপরিপক্বতা প্রকাশ করছে।”
কর্মীর পক্ষ নিয়ে অন্য একজন লেখেন, “নৈতিকতা? আসুন পরিষ্কার হই: বেতন দেওয়া হয় ইতিমধ্যেই করা কাজের জন্য, দয়া করে নয়, অগ্রিমও নয়। কেউ যদি বেতন পাওয়ার পর পদত্যাগ (Resignation) করে, তার মানে সে সেই মাসের দায়িত্ব পূরণ করেছে। এবং ভুলবেন না, সাধারণত এখনও নোটিস পিরিয়ড পালন করতে হয়। তাই সংস্থা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে না। যদি কোম্পানিগুলো আজীবন আনুগত্য চায়, তবে অফার লেটারের বদলে হয়তো বিবাহ সনদ দেওয়া উচিত।”
আরেকজন প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “এটি দুই দিকেই কাজ করে, কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ নয়। যখন কোনও কর্মী এটি কোম্পানির সঙ্গে করে, সাধারণত কোম্পানি ধসে পড়ে না। কিন্তু যখন কোনও কোম্পানি এটি কোনও কর্মীর সঙ্গে করে, অনেক সময় পুরো পরিবার রাস্তায় নেমে আসে। তাই অনুগ্রহ করে এই দিকটিও বুঝুন।”



