রাজ্যের খবর

“বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে!”, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নিদান ঘিরে শোরগোল শিলিগুড়িতে

"হালাল খাবার খাওয়া অশাস্ত্রীয়!" হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিতর্কিত পোস্টারের হয়ে সাফাই বিজেপির

Truth of Bengal: উৎসবের মরশুমে এবার শিলিগুড়িতে চরম বিভাজনের আগুন! “বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না, তবে বিরিয়ানি খান শুধুমাত্র হিন্দু দোকান থেকে” এবং “চলুন এবার পুজোর সমস্ত কেনাকাটা ও পুজো সামগ্রী হিন্দু দোকান থেকেই করুন”, রবিবার সকাল হতেই শিলিগুড়ি শহরের আনাচে-কানাচে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ব্যানার ও বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে পুরো জেলা জুড়ে। এতদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়িতে আচমকা এমন পোস্টার দেখে থতমত খেয়ে গিয়েছেন সাধারণ বাসিন্দারাও। ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ ছড়ানোর পাশাপাশি শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর।

শহরের বিভিন্ন মোড়ে সাঁটানো এই পোস্টার প্রসঙ্গে স্থানীয় সাধারণ নাগরিকদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিন ধরে সব সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে একসঙ্গে বসবাস করছেন। কেউ নিজের ইচ্ছামতো যেকোনও দোকান থেকে জিনিসপত্র বা খাবার কিনতেই পারেন, এভাবে কারো ওপর নিদান চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অন্যায়।” তবে বিতর্কের মুখে পড়ে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের দাবি, সামাজিক সচেতনতা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁরা পোস্টার দিয়েছেন, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অংশকে কেন্দ্র করে অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কড়া রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ভারতবর্ষ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। উৎসবের মুখে দাঁড়িয়ে এমন পোস্টার দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও চিন্তার বিষয়। আমজনতাই এর যোগ্য জবাব দেবেন।” অন্যদিকে, সিপিআইএমের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সমাজজুড়ে ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানোই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের প্রধান কাজ। শিলিগুড়িতে সব সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী রয়েছেন, কে কোথা থেকে কেনাকাটা করবেন তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। অবিলম্বে পুলিশকে এই বিতর্কিত পোস্টারগুলি খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া উচিত।”

তবে এই পোস্টার বিতর্কে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন বিজেপি জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, “সনাতনী ধর্ম ও সংস্কৃতি অনুযায়ী হালাল করা খাবার খাওয়া উচিত নয়। ভারত যদি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হয়, তবে তো মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড থাকা উচিত নয়। এক তরফা ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ দেওয়া বন্ধ হওয়া দরকার।” প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর আগে আমিষ-নিরামিষ আহার নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ইতিমধ্যেই বেশ গরম। তার ওপর শিলিগুড়ির এই পোস্টার কাণ্ড উৎসবের মুখে জল্পনা ও উত্তাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

Related Articles