রাতে খাওয়ার পর নিয়মিত হাঁটলে বাড়াবে হজমশক্তি, কমাবে অবসাদ
Walking regularly after eating at night will increase Digestion

The Truth of Bengal, Mou Basu: রাতে খাওয়ার পর অনেকেরই হাঁসফাঁস, আইঢাই করে শরীর। তার জন্য ব্যাঘাত ঘটে ঘুমেও। সহজে ঘুম আসতে চায় না। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় শরীরেও তার ছাপ পড়ে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরের যত্ন নিতে তাই স্বাস্থ্যের পাশাপাশি নজর দিতে হবে ফিটনেসের ওপরও। শরীর ঝরঝরে রাখতে তাই রাতে খাওয়াদাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটা খুব দরকার। নিয়মিত এটা করতে হবে।
রাতে হাঁটা কেন জরুরি?
★ রাতে খাওয়ার পর নিয়মিত হাঁটলে হজমশক্তি বাড়ে। হাঁটলে আমাদের শরীরে গ্যাস্ট্রিক এনজাইম বা উৎসেচক বেশি তৈরি হয় যা খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা দূর হবে।
★ রাতে খাওয়াদাওয়ার পর নিয়মিত হাঁটলে খাবার ভালো ভাবে হজম হয়, শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন পদার্থ বেরিয়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
★রাতে খাওয়ার পর হাঁটলে ক্যালরি ঝরে। মেটাবলিজম বাড়ে। কিন্তু রাতে খাওয়ার পর পরই শুলে আর বসলে, মেটাবলিজম কমে যায়।
★রাতে খাওয়াদাওয়ার পর নিয়মিত হাঁটলে অনেকের রাতে হাবিজাবি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে কমপক্ষে ১৫ মিনিট হাঁটলেই খাইখাই ভাব কমে যায়।
★রাতে খাওয়ার পর হাঁটলে ঘুম খুব ভালো হয়। ঘুম ভালো হলে দুশ্চিন্তা কমে। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, মানসিক অবসাদে ভুগলে ঘুম কম হয়। রাতে খাওয়ার পর নিয়মিত হাঁটলে মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোরফিন হরমোন বেরোয় বেশি মাত্রায়। এই হরমোন মন খুশি রাখতে সাহায্য করে। দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, অবসাদ থেকে দূরে রাখে মনকে। মানসিক উৎফুল্লতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
★রাতে নিয়মিত হাঁটলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। হাঁটলে ক্যালরি ঝরে। বাড়তি ওজন কমে গিয়ে ছিপছিপে ফিট হওয়া যায়। হাঁটাচলা এনার্জি লেভেল বাড়ায়। অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করে। সৃষ্টিশীলতা, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও শেখার আগ্রহ বাড়ায়।
★গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলেই হৃদরোগের আশঙ্কা কমে ১৯%। BMJ জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন জোরে জোরে হাঁটলে মৃত্যুর আশঙ্কা কমে ২৪%। অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে ৪৩%।
★আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা হাঁটলেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে ১৪%। বয়স্করা প্রতিদিন হাঁটলে কমে স্মৃতিভ্রংশ রোগের আশঙ্কা। হাঁটলে বাড়ে রক্তে এইচডিএল কোলেস্টেরল মাত্রা, কমে ক্ষতিকারক এলডিএল কোলেস্টেরল মাত্রা। ভালো থাকে হার্ট। অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ১০ মিনিট হাঁটলেই কমবে রক্তচাপ।






