
The Truth of Bengal,Mou Basu: আড্ডাপ্রিয় বাঙালির চায়ের আড্ডা ছাড়া চলে না। চায়ের কাপে রোজ তুফান না তুললে চলে না বাঙালির। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে লিকার চা রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। লিকার চা করতে ফার্মেন্টেড চা পাতা ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া চলে চায়ের পাতার। পলিফেনলস আর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ চা পাতা। জার্মানির হামবুর্গের ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অফ ডায়াবেটিস এই গবেষণা চালায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রোজ নিয়মিত লিকার চা খেলে প্রিডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে ৫৩%। টাইপ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে ৪৭%।গবেষণাপত্রের যুগ্ম লেখক অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডেলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক টংঝি ইউ জানান, নিয়মিত চা খাওয়ার ফলে আমরা ব্লাড সুগার ম্যানেজমেন্টে তার প্রভাব পড়ছে বলে আমরা দেখতে পেয়েছি। প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বেরিয়ে যায় শরীর থেকে আর ইনসুলিন রেজিজট্যান্ট ক্ষমতা বাড়ে।
ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ভালো করে হয় নিয়মিত লিকার চা খেলে।চিনের সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০-৮০ বছর বয়সি ১৯২৩ জনের ওপর গবেষণা চালান। এরমধ্যে ৪৩৬ জনের ডায়াবেটিস ছিল। ৩৫২ জনের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাঁরা হননি প্রিডায়াবেটিস কন্ডিশনে রয়েছেন। ১১৩৫ জনের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক ছিল। যাঁদের ওপর গবেষণা চালানো হয় তাঁরা নন হ্যাবিচুয়াল অর্থাৎ চা খাওয়ার অভ্যাস নেই। যে কোনো এক ধরনের চা খান। কত নিয়মিত ও কী রকমের চা খান তা জিজ্ঞেস করা হয়। নিয়মিত কতবার দিনে চা খাওয়া হচ্ছে ও কী রকমের চা খাওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বেরিয়ে যাওয়া ও ইনসুলিন রেজিজট্যান্ট আর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মেপে দেখেন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লিকার চা খাওয়ার ফলে প্রিডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে।গবেষকদের মতে, লিকার চাতে থাকা বায়ো অ্যাক্টিভ কম্পাউন্ড বা যৌগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গ্লুকোজ বেরিয়ে যাওয়ার ওপর প্রভাব পড়ে।অন্যদিকে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক গবেষণায় দেখেছেন রোজ ৩ কাপ লিকার চা খেলে কমে রক্তচাপ। গবেষকদের মতে, রক্তনালির ভেতরের অংশে থাকা endothelial cells এর কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে লিকার চা। রক্তচাপের হেরফের ভালো করে বোঝা যায় endothelial cells এর গন্ডগোল হলে। আরো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লিকার চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস রক্তনালির কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে। ওজন কমায়, পেটের বাড়তি চর্বি গলিয়ে দেয়। লিকার চায়ে থাকা পলিফেনলস বাড়তি চর্বি জমতে বাধা দেয়। কিন্তু যদি চায়ে দুধ দেওয়া হয় তাহলে ব্যাহত হয় এই ফ্যাট ব্লকিং প্রক্রিয়া।
Free Access






