“ওনাকে যেন কেউ ডিম না ছোড়ে”, মমতার হাউস অ্যারেস্টের অভিযোগে চরম কটাক্ষ দিলীপের
মমতার হাউস অ্যারেস্টের অভিযোগ নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ
Truth of Bengal: রবিবার রাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে কার্যত তাঁর বাড়ির সামনের অংশে কড়া পাহারা চলে। সেই ছবি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল চর্চা। সমাজমাধ্যমে মমতা অভিযোগ তোলেন, বারুইপুরে যেতে তাঁকে আটকাতেই বিজেপির নির্দেশে কার্যত হাউস অ্যারেস্ট করা হয়েছে। ঘটনায় সরব হন মমতাপন্থী নেতা-নেত্রীরাও। এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খোলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতার বাড়ির সামনে এত পুলিশ মোতায়েনের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি পাল্টা অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যখন আমরা যেতাম, আমাদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হত? কতবার গাড়ি ভাঙা হয়েছে, গো-ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়েছে, কালো পতাকা দেখানো হয়েছে। বিরোধী থাকলে কেমন লাগে, এবার দেখুন।”
মমতার হাউস অ্যারেস্টের অভিযোগ নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়নি। পার্টির নেতারা যেভাবে ডিম খাচ্ছেন, ওনাকেও যাতে কেউ ডিম না খাওয়ায়, তাই সম্মানের সঙ্গে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে সোমবার সকাল হতেই বদলে যায় মমতার বাড়ির সামনের নিরাপত্তার ছবি। রবিবার মাঝরাত থেকেই ধীরে ধীরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী সরানো শুরু হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত নিয়মিত নিরাপত্তাই বাড়ির সামনে দেখা যায়। যদিও বাড়ির সামনের অংশ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সরানো হলেও, বাড়িতে ঢোকার রাস্তার মুখে এখনও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সূত্রের খবর, বেলা বাড়ার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী বাহিনী বাড়ানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতেই বারুইপুরে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এরপরই একটি ভিডিও বার্তায় বাড়ির সামনে হঠাৎ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, “আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু প্রশ্ন হল, এমন কী ঘটল যে হঠাৎ আমার বাড়ির সামনে সিআরপিএফ, আরপিএফ মোতায়েন করা হল? আমরা চোর না ডাকাত? কোনও দিন দাঙ্গা করেছি? আমি তো এখন একা, একা যাব বলেছিলাম। আমাকে নিয়ে এত চিন্তা কেন? আমাকে নজরবন্দি করা হয়েছে কেন? আপনারা কী চাইছেন, আমি বুঝতে পারছি না।”






