কলকাতা

স্ট্র্যান্ড রোডে কড়া নিরাপত্তা, সিইও দফতর ঘিরে বাড়ল নজরদারি

সিইও-র এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ।

Truth Of Bengal: নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি চালু থাকলেও ফর্ম ৬ ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে শহরে। সোমবার ও মঙ্গলবার পরপর দু’দিন সিইও দফতরের সামনে ধর্না-বিক্ষোভ, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হেয়ার স্ট্রিট, স্ট্র্যান্ড রোড সহ বিবাদীবাগ-কয়লাঘাটা এলাকা।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট বার্তা দেন, “পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আমি পুলিশকে টিউশন দিতে যাব না। তবে যদি দেখি কাজ হচ্ছে না, তাহলে আমাকেই দেখতে হবে।”

সিইও-র এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। বিবাদীবাগে অবস্থিত সিইও দফতর ঘিরে বাড়ানো হল নিরাপত্তা। লালবাজারের নির্দেশে স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকায় বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারির পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড ক্রসিং পর্যন্ত স্ট্র্যান্ড রোডের সম্পূর্ণ অংশ এবং রাস্তার দু’পাশের ফুটপাথ জুড়েই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। আগে যেখানে কিছু অংশ এই বিধিনিষেধের বাইরে ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা এলাকাকেই নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, ২৩ মার্চ জারি হওয়া আগের নির্দেশিকার অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।গত কয়েক দিন ধরেই ফর্ম ৬ জমা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, রাজনৈতিক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের আশঙ্কায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছিল। তারই জেরে এই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হেয়ার স্ট্রিট ও স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এই এলাকা হাওড়াগামী বাসরুট এবং বড়বাজারমুখী পণ্যবাহী ট্রাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট করিডর। ফলে লাগাতার বিক্ষোভ ও অশান্তির জেরে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের আগে সিইও দফতরের কাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।