কলকাতা

মাত্র ২.৮১ শতাংশ, কেন্দ্রের বঞ্চনার পরেও সীমার মধ্যেই ঋণ: চন্দ্রিমা

Only 2.81 percent, debt within limit despite central deprivation: Chandrima

Truth Of Bengal: জয় চক্রবর্তী, কলকাতা: কেন্দ্রের বঞ্চনার পরেও রাজ্য সরকারের চলতি অর্থবর্ষে ঋণের পরিমাণ মাত্র ২.৮১ শতাংশ। গত ৩১ মার্চ শেষ হয়ে গিয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ। ১এপ্রিল তথা মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে নয়া (২০২৫-২৬) অর্থবর্ষ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চলতি অর্থবর্ষের বাজেট রাজ্য বিধানসভায় পেশ করেছেন অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অর্থবর্ষে ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত কম রাখা হয়েছে। মাত্র ২.৮১ শতাংশ। এবং এটা সীমার মধ্যেই রয়েছে’। ইতিমধ্যেই বিধানসভার অধিবেশনের নিয়মানুযায়ী বর্তমান অর্থবর্ষের বাজেটের অতিরিক্ত বরাদ্দ কনসলিডেটেড ফান্ড বা সম্মিলিত তহবিল থেকে খরচ করার বিষয়টি পাস হয়েছে।

‘কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক বঞ্চনা করা বন্ধ করেনি। বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থ বন্ধ করে দিয়েছে। আমজনতা যাবে কোথায়?’ উস্মা প্রকাশ করে প্রশ্ন করলেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন দফতর ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ চলতি অর্থবর্ষে বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান ২০১০-১১ অর্থবর্ষের দিকে তাকালে যে বাজেট বরাদ্দ আমরা দেখেছি তার থেকে বর্তমান সময়ে বাজেট বরাদ্দ বিভিন্ন দফতর ভিত্তিকভাবে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণের কথায় ধরুন না। বর্তমান অর্থ ষবর্ষে ২১,৩৫৫.২৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষে যেখানে ১০০০ কোটি টাকাও ছিল না। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের বাজেট খরচ সম্মিলিত তহবিল থেকে নেওয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বিধানসভায় পাস হয়েছে। ‌গত অর্থবর্ষে খরচের পরিমাণ ৩.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা ছিল।

বর্তমান অর্থবর্ষে তা ৩.৮৯ লক্ষ কোটি টাকার অনুমান রাখছে রাজ্য সরকার। ৯০ টির উপর সামাজিক প্রকল্প রাজ্য সরকার হাতে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ এনেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে যেমন চিঠি দিয়েছেন তেমনি একান্ত বৈঠকে তুলে দিয়েছেন রিপোর্ট।

তারপরেও কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রূক্ষেপ নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের অসুবিধের কথা ভেবেই বেশ কিছু প্রকল্প যা একসময় কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিত তা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বেশ কিছু সামাজিক প্রকল্প চলে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী প্রকল্প রাজ্যের মানুষের ভরসা। ‘এই অর্থবর্ষের বাজেট যেভাবে করা হয়েছে তাতে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। সেই কারণে বিগত বছরের তুলনায় এই বছরের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ অল্প মাত্রাতেই বেশি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সে ক্ষেত্রে নয়া অর্থ বর্ষে ২.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছে সরকার।

‘এই অর্থবর্ষে ১.১২ লক্ষ কোটি টাকার নিজস্ব আয় হওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে বাজেটে। পাশাপাশি ২০২৯-৩০ আর্থিক বছর পর্যন্ত জিএসডিপি’র ক্ষেত্রে তিন শতাংশ ধার নেওয়ার সীমাও বাঁধা রয়েছে’ জানিয়েছেন নবান্নের অর্থ দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।

ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে ফিসকাল রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পেশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, স্বাস্থ্য, সংখ্যালঘু বিষয়ক সহ বিভিন্ন দফতলর ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Related Articles