কলকাতা

অমর্ত্য সেন থেকে দেব- এসআইআর নোটিস প্রসঙ্গে বিজেপি-কে ‘ধিক্কার’ মুখ্যমন্ত্রীর

Truth Of Bengal: ভোটের মুখে বাংলায় এসআইআর (Special Intensive Revision) ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক তোলপাড় তীব্র আকার নিয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছেন রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি—নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় অভিনেতা ও ঘাটালের সাংসদ দেবও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে শুক্রবার যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল শেষে হাজরায় এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সেই সভামঞ্চেই দেবের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআর নোটিস নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বলেন, “অমর্ত্য সেন বরবাদ, বাংলার গর্ব জয় গোস্বামী বরবাদ, আর এই যে দেব বসে আছে—কত দশক ধরে সিনেমা করছে, তিন বারের সাংসদ তাকেও ডেকেছে। ছিঃ! লজ্জা, লজ্জা। ধিক্কার, ধিক্কার, ধিক্কার।” তাঁর এই মন্তব্যে সভামঞ্চে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে চলচ্চিত্র জগতে আত্মপ্রকাশ করেন দেব। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘অগ্নিশপথ’ ছবিতে তাঁর অভিনয় যাত্রা শুরু হলেও প্রকৃত সাফল্য আসে ২০০৭ সালে ‘আই লাভ ইউ’ ছবির মাধ্যমে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। অনুরাগীদের কাছে আজও তিনি ‘ঘরের ছেলে’। ২০১৪ সালে রাজনীতিতে পা রেখে ঘাটাল কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন দেব, বর্তমানে তিনি তিনবারের সাংসদ। সেই দেবকেই এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ জানুয়ারি দেব এবং ২০ জানুয়ারি মহম্মদ শামি কাটজুনগর স্বর্ণময়ী স্কুলে এসআইআর শুনানিতে হাজির হবেন।

বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “ভোটের সময় আসলে নাড়ু বানিয়ে রাখব—তিলের নাড়ু, ক্ষীরের নাড়ু, মুড়ির নাড়ু, চিঁড়ের নাড়ু। আর বাংলার মা-বোনেরা রাখবেন ঝাড়ু। ঝাঁটা মারতে হবে। ‘মার ঝাড়ু মার ঝাড়ু মেরে ঝেঁটিয়ে বিদায় কর’—এই গান মনে পড়ে গেল।” তাঁর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রতীকী ভাষার ব্যবহারও স্পষ্ট।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চূড়ান্ত তালিকা বেরোলে কী হবে কেউ জানে না। মহিলা বাদ যাবে, তরুণ প্রজন্মের কী হবে জানি না। বলছে ফর্ম ৬ ফিল আপ করুন, আবার ভিতরে ভিতরে বলছে ফর্ম ৪ না দিলে নাম বাদ যাবে।” পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর অভিযোগ, “১.৫ কোটি ভোট কাটার ক্ষমতা নিয়ে এসেছেন, সবার নাম কেটে বিজেপিকে জেতাতে চান।”

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মমতা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “ছাব্বিশে আমাদের নয়, তোমাদের পতন হবে। তোমাদের পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। দিল্লিতে বিজেপি সরকার থাকবে না, থাকবে না, থাকবে না।” তাঁর এই বক্তব্যে তৃণমূলের লড়াইয়ের সুর আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Related Articles