তথ্যপ্রযুক্তি আইনের জালে ভুয়ো খবর: নির্বাচন আবহে উত্তাপ ছড়ালে ব্যবস্থা নেবে কমিশন
বিভ্রান্তিকর তথ্য রুখতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে
Truth Of Bengal: নির্বাচনী আবহে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হিংসামুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রুখতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু ও কেরলের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকদের দফতর, সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেটা, এক্স সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার কর্তৃপক্ষ।বৈঠকে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯ ও ৬৯এ ধারার প্রয়োগ এবং তার আইনি গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, নির্বাচনের সময় কোনও উস্কানিমূলক বা ভুয়ো পোস্ট বরদাস্ত করা হবে না এবং এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে অনুরোধ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, বেশিরভাগ সামাজিক মাধ্যম সংস্থা কমিশনের এই নির্দেশিকা মেনে চলার আশ্বাস দিলেও ‘এক্স’ কর্তৃপক্ষ ভিন্ন অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, নিজস্ব নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনও দেশ বা রাজ্যের নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯ ও ৬৯এ ধারা সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। এই ধারার নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘সেফ হারবার’ সুবিধা হারাতে পারে এবং জরিমানা বা কারাদণ্ডের মুখেও পড়তে পারে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে ভুয়া খবর ( ফেক নিউজ) নিয়ে অনেকদিন আগে থেকেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এবার সেই পথেই নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের দুই দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আবহে সোশ্যাল মিডিয়াতে অশান্তি ছড়ানোর বার্তা, ভুল খবর, সামঞ্জস্যহীন অপিনিয়ন পোল নজরে রাখছে নির্বাচন কমিশন। এই কু-প্রভাব যাতে মানুষের মধ্যে না পড়ে তার জন্য আইনের ব্যবস্থাও নেবে নির্বাচন কমিশন।






