কলকাতা

নির্বাচন কমিশনের বড় পদক্ষেপ: অপরাধীর তথ্য গোপন করায় কসবা থানার ওসি নিলম্বিত

নির্দেশিকা পালনে গাফিলতির অভিযোগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

Truth Of Bengal: নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের মুখে কসবা থানার ওসি। সক্রিয় অপরাধীদের তালিকায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের নাম না থাকায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (ওসি) সাসপেন্ড বা নিলম্বিত করল কমিশন। ভোটের আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশনের দেওয়া নির্দেশিকা পালনে গাফিলতির অভিযোগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের অশান্তিপ্রবণ এলাকা এবং পূর্বতন নির্বাচনে অপরাধে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি থানার ওসি এবং এসএইচও-দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পলাতক ও ঘোষিত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার। বিশেষত, জামিন অযোগ্য পরোয়ানাগুলো ১০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সোনা পাপ্পুর মতো অপরাধীর নাম সক্রিয় তালিকায় না থাকায় কমিশনের রোষের মুখে পড়েন কসবা থানার ওসি।

সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় অশান্তির ঘটনাতেও তার নাম জড়িয়েছিল। শুধু তাই নয়, গত বুধবার সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। এতকিছুর পরেও পুলিশের নথিতে তাকে ‘সক্রিয় অপরাধী’ হিসেবে কেন রাখা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

কমিশনের এই কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, অপরাধীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালানো এবং প্রয়োজনে ‘লুকআউট সার্কুলার’ জারি করার কথা বলা হয়েছিল। কসবা থানার এই প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে কমিশন ওসি-কে পদ থেকে সরানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না, এই বার্তার মাধ্যমে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন।

Related Articles