কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার লোকভবনে শুভেন্দু! রাজ্যপালের সঙ্গে একান্তে কী নিয়ে আলোচনা?

আসন্ন বাজেট ও মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ! বুধবার দুপুরে লোকভবনে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রীর মেগা বৈঠক ঘিরে তোলপাড়

Truth of Bengal: ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর নতুন রূপে সেজে উঠেছে বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এই প্রথমবার আনুষ্ঠানিক সফরে লোকভবনে (পূর্বতন রাজভবন) গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বেলার দিকে তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। লোকভবনে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনো মাত্রই রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে সুদৃশ্য পুষ্পস্তবক দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই রাষ্ট্রনেতার কুশল বিনিময়ের পর বেশ কিছু সময় ধরে চলে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একান্ত বৈঠক।

৮ মে-র দাবিপত্রের পর আজ প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

উল্লেখ্য, গত ৮ মে যখন শুভেন্দু অধিকারীর নাম পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, ঠিক সেই দিনই তিনি লোকভবনে এসে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবিপত্র পেশ করেছিলেন। রাজভবনের নাম বদলে ‘লোকভবন’ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর প্রথম হাইপ্রোফাইল সাক্ষাৎ। বুধবার দুপুর ১২টার ঠিক কিছু সময় আগে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় লোকভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

নজরে আগামী মাসের বাজেট ও মন্ত্রিসভার বড় রদবদল

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বর্তমানের এই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষামূলক কাজ নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম প্রকাশ থেকে শুরু করে হকার ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান, নয়া সরকারের একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই গ্রাউন্ড জিরোতে শুরু হয়ে গিয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী মাসেই বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে এই নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। সংসদীয় রীতি ও নিয়ম মেনে রাজ্যপালের উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমেই এই বিশেষ বাজেট অধিবেশনের সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি, খুব শীঘ্রই শুভেন্দু অধিকারীর বর্তমান মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা রদবদল ঘটতে চলেছে বলে খবর। নবান্নের তালিকায় থাকা নতুন মন্ত্রীদের লোকভবনেই আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল আর এন রবি। মনে করা হচ্ছে, বুধবারের এই দীর্ঘ শুভেন্দু-রবি আলোচনায় এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলিই সবিস্তারে উঠে এসেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সুসম্পর্ক বজায় রেখে আগামী দিনে বাংলার উন্নয়নকে কীভাবে আরও গতি দেওয়া যায়, দুই প্রধানের বৈঠকে সেই ব্লু-প্রিন্টই তৈরি হলও বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles