আন্তর্জাতিক

Pakistan Brain Drain Crisis: অন্ধকারের পথে পাকিস্তান! ২ বছরে দেশ ছাড়লেন ৫০০০ চিকিৎসক ও ১১০০০ ইঞ্জিনিয়ার

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দুই বছরে অভাবের তাড়নায় দেশ ছেড়েছেন ৫ হাজার চিকিৎসক, ১১ হাজার ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট্যান্ট।

Truth of Bengal: চরম অর্থনৈতিক সংকট ও মেধার গণপ্রস্থান—সব মিলিয়ে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে পাকিস্তান। সে দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে ‘ব্রেন ড্রেন’ নয় বরং ‘ব্রেন গেইন’ বলে দাবি করলেও, বাস্তব পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকেই ইঙ্গিত করছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দুই বছরে অভাবের তাড়নায় দেশ ছেড়েছেন ৫ হাজার চিকিৎসক, ১১ হাজার ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট্যান্ট। শাহবাজ শরিফ সরকারের আমলে দেশত্যাগের এই হিড়িক পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৮১ জন মানুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই সংখ্যাটা ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৪৬ জন। উদ্বেগের বিষয় হলো, আগে কেবল সাধারণ শ্রমিকরাই উপসাগরীয় দেশগুলিতে কাজের খোঁজে যেতেন, কিন্তু এখন মেধাবী পেশাদাররাও দেশে থাকার ভরসা পাচ্ছেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেধাবীদের এই দেশত্যাগ অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান এক বিশাল শূন্যতার মুখে পড়বে। দেশটির এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন প্রাক্তন পাক সেনেটর মুস্তাফা নওয়াজ খোখার। তিনি সাফ জানিয়েছেন, অর্থনীতি ঠিক করতে হলে আগে রাজনীতির সংশোধন প্রয়োজন। পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং হাব হওয়া সত্ত্বেও ঘন ঘন ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে দেশটিকে প্রায় ১.৬২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রায় ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার ফ্রিল্যান্স কর্মীর ওপর, যাঁদের কর্মসংস্থান এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন নিয়ে নতুন করে বিবাদে জড়িয়েছে পাকিস্তান। চন্দ্রভাগা নদীর পর এবার ঝিলাম ও নীলম নদীর জলপ্রবাহ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত ঝিলাম নদীর জল ধরে রাখার ফলে সে দেশে জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজের ওপর। শিল্প ও মেধার পর এবার কৃষি ক্ষেত্রেও সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসায় কার্যত দিশেহারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি।