আন্তর্জাতিক

টেনেসিতে অস্ত্র-গোলাবারুদ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

হিকম্যান ও হামফ্রেস কাউন্টির সীমানায় অবস্থিত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন কর্মী কাজ করতেন।

Truth Of Bengal: আমেরিকার টেনেসিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ন্যাশভিল থেকে প্রায় ৬০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকুরেট এনার্জেটিক সিস্টেমস নামের একটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির কারখানায় ঘটে এই বিস্ফোরণ। ঘটনায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কারখানাটি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন কর্মী মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের কয়েক মাইল এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রায় ১,৩০০ একরজুড়ে বিস্তৃত কারখানাটির বড় অংশ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। হিকম্যান ও হামফ্রেস কাউন্টির সীমানায় অবস্থিত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন কর্মী কাজ করতেন। তবে বিস্ফোরণের সময় কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অন্তত একটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

হামফ্রেস কাউন্টির শেরিফ ক্রিস ডেভিস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এটি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলির একটি। ভবনটির অবস্থা এমন যে, বর্ণনা করার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই— সেটি কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অফ অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস। এই বিস্ফোরণের ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত শোনা গিয়েছে এবং মাটিও কেঁপে উঠেছে।এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণস্থল থেকে আমি প্রায় ২১ মাইল দূরে থাকি। প্রচণ্ড শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়েছিল, আমার ঘরেই বজ্রপাত হয়েছে।

প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) এই সংস্থার সঙ্গে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছিল ‘টিএনটি’ সরবরাহের জন্য। কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারা সামরিক, মহাকাশ ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক তৈরি, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে।যদিও হিকম্যান কাউন্টির মেয়র জিম বেটস জানিয়েছেন, এই কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এর আগে কোনও গুরুতর অভিযোগ ওঠেনি। তবে টেনেসিয়ান পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে একই প্রতিষ্ঠানে এক ছোট বিস্ফোরণে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছিলেন। এফবিআই ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে, শুক্রবারের বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি অন্য কোনও নাশকতা এর নেপথ্যে রয়েছে।