এআই সংস্থার লোভনীয় অফারকে ‘না’, ২৪৪ কোটির প্রস্তাব ফিরিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চায় মা ও মেয়ে
তাঁদের স্পষ্ট কথা, টাকার চেয়েও তাঁদের কাছে কৃষি জমি এবং স্থানীয় পরিবেশের সুরক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Truth of Bengal: যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের এক মা ও মেয়ে সম্প্রতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে। একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংস্থার ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য নিজেদের চাষের জমি বিক্রি করতে অস্বীকার করেছেন আইডা হাডলস্টন ও তাঁর কন্যা ডেলসিয়া বেয়ার। প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় যা ২৪৪ কোটি টাকারও বেশি, সেই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের স্পষ্ট কথা, টাকার চেয়েও তাঁদের কাছে কৃষি জমি এবং স্থানীয় পরিবেশের সুরক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাসন কাউন্টির বাসিন্দা আইডা হাডলস্টনের ৭১ একর জমির জন্য সংস্থাটি ৪.২৬ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করেছিল। অন্যদিকে তাঁর কন্যা ডেলসিয়ার ৪৬৩ একর জমির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ২২ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে এই বিশাল অঙ্কের হাতছানিও তাঁদের টলাতে পারেনি। তাঁদের অভিযোগ, যে সংস্থাটি এই প্রকল্প করতে চাইছে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছে। এই গোপনীয়তা এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় তাঁরা কোনোভাবেই এই চুক্তিতে রাজি হননি। পরিবারের দাবি, এই ডেটা সেন্টার তৈরি হলে স্থানীয় জনজীবন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আইডা হাডলস্টন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অনেকে তাঁদের সাধারণ কৃষক ভেবে ভুল করতে পারেন, কিন্তু তাঁরা জানেন যে এই ধরণের প্রকল্পের ফলে কীভাবে চাষের জমি হারিয়ে যায় এবং জলের সংকট তৈরি হয়। তিনি আশঙ্কা করছেন, এই প্রকল্পের ফলে পরিবেশ দূষিত হবে এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে এই প্রকল্পের ফলে এলাকায় ৪০০টি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং ১,৫০০টি নির্মাণকাজের সুযোগ তৈরি হবে, কিন্তু আইডা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রতারণা বলে মনে করছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, প্রতিটি এআই সার্চ বা কমান্ডের আড়ালে লুকিয়ে থাকে পরিবেশের এক বিশাল মূল্য। এই প্রযুক্তি সচল রাখতে প্রয়োজন হয় বিশালাকার ডেটা সেন্টার, যা চালানোর জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ এবং ঠান্ডা রাখার জন্য লক্ষ লক্ষ লিটার জলের প্রয়োজন হয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে, এআই-কে দেওয়া প্রতি ১০০ শব্দের একটি সাধারণ নির্দেশের জন্য প্রায় ৫১৯ মিলিলিটার বা এক বোতল জল খরচ হয়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারী যখন প্রতি মিনিটে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, তখন পরিবেশের ওপর এর চাপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কেনটাকির এই পরিবারটি তাঁদের ১,২০০ একর কৃষি জমিকে রক্ষা করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মেসভিল শহরের উপকণ্ঠে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই জমি তাঁরা কোনোভাবেই প্রযুক্তির আগ্রাসনের হাতে ছেড়ে দিতে চান না। তাঁদের এই অবস্থান এখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বনাম পরিবেশ রক্ষার এক অন্যতম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।






