কলকাতাদেশ

অরেঞ্জ লাইনের কাজ শেষ হবে কবে? শমিকের প্রশ্নের জবাব দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব

তিনি বলেন, মাত্র তিনটি রাত ৮ ঘণ্টার জন্য যান চলাচল সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে দিলেই কাজ করা সম্ভব, কিন্তু রাজ্য সরকারের অনুমতি না থাকায় সমস্যা চলছে।

Truth Of Bengal: শুক্রবার রাজ্যসভার সদস্য ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আবারও চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রশ্নোত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, বেলেঘাটা থেকে গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশন পর্যন্ত চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে মেট্রোর কাজ আটকে আছে কারণ ১০ মাস ধরে রাজ্য সরকার ছাড়পত্র দিচ্ছে না। তিনি বলেন, মাত্র তিনটি রাত ৮ ঘণ্টার জন্য যান চলাচল সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে দিলেই কাজ করা সম্ভব, কিন্তু রাজ্য সরকারের অনুমতি না থাকায় সমস্যা চলছে। এমনকি কলকাতা পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও যান চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল, তবু কাজ শুরু হয়নি।

এর আগেও রেলমন্ত্রী রাজ্য সরকারের ওপর দায় চাপিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, রাজ্য সরকারের কারণে মেট্রোর কাজের গতি থেমে গেছে। অশ্বিনীর কথায়, ‘‘হাই কোর্টের নির্দেশ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিংড়িঘাটা মেট্রো কাজের অনুমতি দিচ্ছে না।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, নরেন্দ্র মোদীর আমলে কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রোর কাজ অনেক দিন ধরে আটকে রয়েছে। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণের কাজও স্থগিত। কাজের মধ্যে মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশ অসম্পূর্ণ, যা ঠিক চিংড়িঘাটা মোড়ে রয়েছে। অভিযোগ, ওই অংশে কাজ করতে বাইপাসে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে, কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি না দেওয়ায় কাজ এগোতে পারছে না। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

অন্যদিকে, গত বছর প্ল্যাটফর্মের পিলারে ফাটল ধরা পড়ায় নিউ গড়িয়া সংলগ্ন কবি সুভাষ স্টেশন পর্যন্ত মেট্রো চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। শমীক এ বিষয়ে কবি সুভাষ স্টেশনের কাজ কতদূর এগিয়েছে তা জানতে চান। কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, অরেঞ্জ লাইনের কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনে কোনো কাঠামোগত সমস্যা নেই। ব্লু লাইনে, অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত স্টেশনগুলো ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং ২০১০ সালে চালু করা হয়েছিল। তবে কাঠামোগত কারণে গত বছরের জুলাই মাসে ব্লু লাইনের কবি সুভাষ স্টেশন যাত্রী পরিষেবার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই প্ল্যাটফর্মের সংস্কারের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।