স্বামীর উপর বোঝা নয়, স্ত্রীর সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করা স্থায়ী খোরপোষের লক্ষ্য: সুপ্রিম কোর্ট
The aim of permanent maintenance is to ensure the safety of the wife, not to burden the husband: Supreme Court

Truth Of Bengal: মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট একটি বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় স্বামীকে স্ত্রীকে এককালীন স্থায়ী খোরপোষ হিসেবে ৫ কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং প্রসন্ন বি. ভারালে সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।
Supreme Court lays down factors that required due weightage while deciding the permanent alimony amount:
i. Status of the parties, social and financial.
ii. Reasonable needs of the wife and the dependent children.
iii. Parties’ individual qualifications and employment… https://t.co/zllm13bx6d
— Live Law (@LiveLawIndia) December 11, 2024
এছাড়া, পিতার দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে আদালত নির্দেশ দেয় যে স্বামী তার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আর্থিক সুরক্ষার জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করবেন।
মামলার পটভূমি
বিবাহের ছয় বছর পর স্বামী এবং স্ত্রী প্রায় দুই দশক ধরে আলাদা থাকছিলেন। স্বামী দাবি করেন, স্ত্রী অতিরিক্ত সংবেদনশীল এবং তার পরিবারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। অন্যদিকে, স্ত্রী অভিযোগ করেন যে, স্বামীর আচরণ তার প্রতি ভালো ছিল না।
দীর্ঘকালীন আলাদা থাকার কারণে এবং বিবাহ পুনরায় চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় আদালত বিবাহটিকে “অপ্রত্যাবর্তনীয়ভাবে ভেঙে যাওয়া” বলে বিবেচনা করে।
স্থায়ী খোরপোষের সিদ্ধান্ত
বিচারকরা হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী অন্যান্য আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলেও, মূলত স্থায়ী খোরপোষের প্রশ্নেই নজর দেন। রায় প্রদানের আগে, আদালত রাজনেশ বনাম নেহা (২০২১) এবং কিরণ জ্যোত মাইনি বনাম অনীশ প্রমোদ প্যাটেল (২০২৪) মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে স্থায়ী খোরপোষ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেন।
আদালত উল্লেখ করেন যে, স্থায়ী খোরপোষ নির্ধারণের সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত:
১. পক্ষগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থা।
২. স্ত্রী ও সন্তানের যৌক্তিক প্রয়োজন।
৩. স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মসংস্থানের অবস্থা।
৪. আবেদনকারীর নিজস্ব উপার্জন বা সম্পদ।
৫. বিবাহিত জীবনে স্ত্রীর জীবনযাত্রার মান।
৬. পরিবারের দায়িত্বের জন্য স্ত্রীর পেশাগত ত্যাগ।
৭. চাকরিবিহীন স্ত্রীর আইনি খরচ।
৮. স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য ও দায়বদ্ধতা।
আদালত আরও জানান, এই বিষয়গুলো কোনো কঠোর নিয়ম নয় বরং একটি গাইডলাইন হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, স্থায়ী খোরপোষের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যা স্বামীকে শাস্তি প্রদান না করলেও স্ত্রীর জন্য একটি সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করে।
এই মামলায় স্ত্রী ছিলেন একজন গৃহিণী, আর স্বামী একটি বিদেশি ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পদে কর্মরত থেকে প্রতি মাসে ১০-১২ লাখ টাকা উপার্জন করছিলেন। এই প্রেক্ষিতে আদালত বিবেচনা করে স্ত্রীর স্থায়ী খোরপোষের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করেন।
আইনজীবীদের উপস্থিতি
আবেদনকারী (স্বামী) পক্ষে: মুক্তা গুপ্তা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট; বিরেশ বি. সাহারিয়া এবং অন্যান্য।
উত্তরদাতা (স্ত্রী) পক্ষে: সঞ্জয় জৈন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট; অনু নারুলা এবং অন্যান্য।






