“গণতন্ত্রের ওপর আঘাত!” মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধির
কেন্দ্র যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
Truth of Bengal: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে যখন নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে, তখনই বিশেষ অধিবেশন ডেকে ভারত সরকার যে ভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। সোনিয়া গান্ধির অভিযোগ, এই বিলের আড়ালে আসলে গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানার চেষ্টা চলছে এবং দেশের সংবিধানের মূল কাঠামোকেও দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, কেন্দ্র যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাস হয়েছিল, যেখানে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। সেই আইন অনুযায়ী জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে সংরক্ষণ কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু এখন কেন্দ্র সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে, যা নিয়েই আপত্তি তুলেছেন সোনিয়া। একটি সম্পাদকীয়তে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ২০২১ সালের জনগণনা ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অতীতে সব সময় জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস হয়েছে, কিন্তু এখন সেই প্রথা ভেঙে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে কিছু রাজ্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোনিয়া গান্ধি আরও বলেছেন, কংগ্রেস চেয়েছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হোক, কিন্তু তখন কেন্দ্র তা মানেনি। এখন যখন দুই রাজ্যে ভোট চলছে, সেই সময়েই কেন এত তাড়াহুড়ো করে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হল— এই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে ডাকা হলেও এখনও স্পষ্ট করা হয়নি কোন কোন বিষয় আলোচনায় আসবে। তাঁর আশঙ্কা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, যা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।






