দেশ

Nishikant Dubey: সিআইএ-কে নন্দা দেবী শৃঙ্গে পারমাণবিক গুপ্তচর যন্ত্র বসানোর অনুমতি: নিশিকান্ত দুবে

১৯৬০-এর দশকে চিনের উপর নজরদারির উদ্দেশ্যে হিমালয়ের নন্দা দেবী শৃঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে পারমাণবিক শক্তিচালিত নজরদারি যন্ত্র বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

Truth of Bengal: সোমবার বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৬০-এর দশকে চিনের উপর নজরদারির উদ্দেশ্যে হিমালয়ের নন্দা দেবী শৃঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে পারমাণবিক শক্তিচালিত নজরদারি যন্ত্র বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে নিশিকান্ত দুবে জানান, এই গোপন অভিযান একাধিক ধাপে পরিচালিত হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম ধাপটি হয় ১৯৬৪ সালে জওহরলাল নেহরুর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে। পরবর্তী ধাপগুলি পরিচালিত হয় ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে, যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। দুবে অভিযোগ করেন, পরে আমেরিকান অপারেটররা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে সেই পারমাণবিক শক্তিচালিত গুপ্তচর যন্ত্র হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় ফেলে রেখে যায়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক।

নিজের পোস্টে বিজেপি সাংসদ লেখেন, ১৯৬৪ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরু এবং পরে ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমেরিকার সিআইএ-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে নন্দা দেবীতে চিনের উপর নজরদারির জন্য পারমাণবিক গুপ্তচর যন্ত্র স্থাপন করেছিলেন। তাঁর দাবি, আমেরিকানরা সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সমস্ত যন্ত্রপাতি পাহাড়েই ফেলে রেখে যায়। দুবে প্রশ্ন তোলেন, এর ফলেই কি উত্তরাখণ্ড থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে ক্যানসারের হার বাড়ছে, হিমালয়ে হিমবাহ গলছে, ঘন ঘন মেঘভাঙা বৃষ্টি হচ্ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিচ্ছে?

নিশিকান্ত দুবে আরও দাবি করেন, ১৯৭৮ সালে লোকসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসেও এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার সময় এসে গিয়েছে। এর আগে, ১৪ জুলাইও একই ইস্যুতে কংগ্রেসকে নিশানা করেন বিজেপি সাংসদ। তিনি নন্দা দেবী অঞ্চলে নিখোঁজ একটি আমেরিকান পারমাণবিক যন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির সঙ্গে তার সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করেন।

আরেকটি পোস্টে নিশিকান্ত দুবে ১৯৭৮ সালের একটি চিঠির কপি শেয়ার করেন, যা মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লিখেছিলেন। ওই চিঠিতে হিমালয়ে সিআইএ-র গোপন অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয় এবং প্লুটোনিয়ামচালিত একটি নজরদারি যন্ত্র থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ লিক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ওই যন্ত্রটি তুষারধসে চাপা পড়ে হারিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। দুবে জানান, সেই সময় মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন এবং যদি তেজস্ক্রিয় দূষণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে মার্কিন সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিজেপি সাংসদের দাবি, ১৯৬০-এর দশকে চিনের কার্যকলাপ নজরদারির জন্য নন্দা দেবীতে এই পারমাণবিক যন্ত্র বসানো হয়েছিল, কিন্তু একটি যন্ত্র হারিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নিশিকান্ত দুবে প্রশ্ন তোলেন, কেদারনাথ বিপর্যয়, তিস্তা নদীর ভয়াবহ বন্যা, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী অঞ্চলের হিমবাহ গলন, এমনকি গঙ্গা নদীর জলস্তর কমে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে কি এই নিখোঁজ পারমাণবিক যন্ত্রের কোনও যোগসূত্র রয়েছে?এছাড়াও তিনি নেহরু-গান্ধী পরিবার এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তির কাছে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এই পরিবার দেশের পরিবেশ, কৃষক সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।