দেশ

Delhi Blast: রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের পরই ধরপাকড়! গ্রেফতার জইশ-ই-মহম্মদ-এর নারী শাখার প্রধান ডঃ শাহীন সাইদ

তিনি জানান, শাহীন সাইদ 'বিশেষভাবে ধর্মীয়' ছিলেন না এবং তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল 'উদারপন্থী'।

Truth of Bengal: লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় লখনউ-এর মহিলা চিকিৎসক ডঃ শাহীন সাইদ-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, লখনউয়ের ডালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শাহীন সাইদ ভারতে জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর নারী নিয়োগ শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং ‘জামায়াত-উল-মুমিনাত’ (Jamaat-ul-Mominat) নামে সংগঠনটির মহিলা শাখার প্রধান ছিলেন। গ্রেফতারির পর শাহীনের প্রাক্তন স্বামী ডঃ হায়াত জাফর চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, শাহীন সাইদ ‘বিশেষভাবে ধর্মীয়’ ছিলেন না এবং তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল ‘উদারপন্থী’। ২০১২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই সন্তান বর্তমানে হায়াত জাফরের সঙ্গেই থাকে। হায়াত জাফর বলেন, “আমার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১২ সালে আমাদের বিচ্ছেদ হয়। আমাদের একটি স্থির করা বিয়ে ছিল। আমরা অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে স্থায়ী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এ নিয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। এরপরই আমরা আলাদা হয়ে যাই। তিনি পালমোনোলজি (Pulmonology)-র অধ্যাপক ছিলেন এবং ২০০৬ সালে তাঁর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।” তিনি আরও জানান, বিচ্ছেদের পর থেকে তাঁর সঙ্গে শাহীনের কোনো যোগাযোগ নেই এবং তাঁদের সন্তানেরাও শাহীনের সঙ্গে কথা বলে না।

শাহীন সাইদ ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি গ্রেফতার হওয়া কাশ্মীরি চিকিৎসক ডঃ মুজাম্মিল-এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মুজাম্মিলকেও ফরিদাবাদে তাঁর দুটি ভাড়া ঘর থেকে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহীন সাইদের গ্রেফতারি এমন এক দিনে হয়েছে, যেদিন দিল্লির রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রসহ প্রায় ৫২ জনকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর শাহীনের বাবা সৈয়দ আহমেদ আনসারি তাঁর মেয়ের এমন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। আনসারি আইএএনএস-কে জানান, শাহীনের তিন ভাইবোন। বড় ছেলে শোয়েব তাঁর সঙ্গেই থাকেন, মেজ মেয়ে শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছোট ছেলে পারভেজ আনসারি, যাঁর বাড়িতে সকালে তল্লাশি চালানো হয়, তিনি অনেকদিন আগেই শহর ছেড়েছেন।

আনসারি জানান, শাহীন এলাহাবাদ থেকে মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং ফরিদাবাদে কাজ করতেন। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে শাহীন বা তাঁর প্রাক্তন স্বামী জাফরের সঙ্গে দেখা করেননি। তবে মাসখানেক আগে শাহীনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়, কিন্তু জাফরের সঙ্গে তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কথা বলেন। তিনি শাহীনের গ্রেফতারি সম্পর্কে একেবারেই অবগত ছিলেন না। এদিকে, ফরিদাবাদ সন্ত্রাস মডিউল মামলায় শাহীনের গ্রেফতারির পর এনআইএ (NIA) এবং এটিএস (ATS)-এর দল লখনউয়ে তাঁর বাবার বাড়িতেও যায়। আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শাহীন প্রায়শই ক্যাম্পাসে খারাপ ব্যবহার করতেন। অধ্যাপক বলেন, “শাহীন নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতেন না। কাউকে না জানিয়ে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতেন। কলেজে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অনেকে আসত। তাঁর আচরণ প্রায়শই অদ্ভুত ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল।”

Related Articles