দেশ

India Deepfake Regulation: ডিপফেক-এর অপব্যবহার রুখতে কড়া আইন! বিল পেশ লোকসভায়

শুক্রবার শিবসেনা নেতা শ্রীকান্ত শিন্ডে 'দ্য রেগুলেশন অফ ডিপফেক বিল' নামে বিলটি লোকসভায় পেশ করেন।

Truth of Bengal: ডিজিটাল জগতে ডিপফেক বা অতি-বাস্তব নকল ছবি ও ভিডিওর অপব্যবহার রুখতে কঠোর আইন আনছে কেন্দ্র। সম্প্রতি লোকসভায় একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল (Private Member’s Bill) পেশ করা হয়েছে, যেখানে ডিপফেক নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পষ্ট আইনি কাঠামোর দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার শিবসেনা নেতা শ্রীকান্ত শিন্ডে ‘দ্য রেগুলেশন অফ ডিপফেক বিল’ নামে বিলটি লোকসভায় পেশ করেন। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো— কোনো ব্যক্তির ডিপফেক সামগ্রী তৈরির আগে তার পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা। এর ফলে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

শ্রীকান্ত শিন্ডে বলেন, “হয়রানি, প্রতারণা এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য ডিপফেকের অপব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি সুরক্ষার প্রয়োজন তৈরি করেছে।” বিলটিতে দূষিত উদ্দেশ্য নিয়ে ডিপফেক সামগ্রী তৈরি বা ছড়ানোর ক্ষেত্রে অপরাধীদের জন্য শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। কল্যাণ থেকে নির্বাচিত তিনবারের লোকসভা সদস্য শিন্ডে বিলের লক্ষ্য ও কারণ সম্পর্কে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিপ লার্নিংয়ের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ডিপফেক প্রযুক্তি মিডিয়া ম্যানিপুলেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও এই প্রযুক্তির শিক্ষা, বিনোদন এবং সৃজনশীল ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও এর অপব্যবহার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের বিশ্বাসকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এই প্রস্তাবিত বিলের মাধ্যমে ভারতে ডিপফেক সামগ্রী তৈরি, বিতরণ এবং প্রয়োগ পরিচালনার জন্য একটি স্পষ্ট আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিলটিতে একটি ডেডিকেটেড সংস্থা হিসেবে ডিপফেক টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্সের প্রধান কাজ হবে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ডিপফেকের প্রভাব মোকাবিলা করা এবং গোপনীয়তা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও সম্ভাব্য নির্বাচন হস্তক্ষেপের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করা।

এই টাস্ক ফোর্স শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে ম্যানিপুলেটেড বা কারসাজি করা সামগ্রী শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করবে, যার ফলে ডিজিটাল মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, বিলটিতে উন্নত ইমেজ ম্যানিপুলেশন শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য একটি তহবিল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রাইভেট মেম্বার বিল হলো সংসদের একটি প্রক্রিয়া, যা মন্ত্রীর পদে নেই এমন আইনপ্রণেতাদের সেইসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করে যা সরকারি বিলের মাধ্যমে নাও আসতে পারে বা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ফাঁকফোকর তুলে ধরে যার জন্য আইনি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।