আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর পূর্বাভাস! চলতি অর্থবর্ষেই ৭% ছুঁতে পারে ভারতের জিডিপি
অক্টোবর মাসের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে আইএমএফ
Truth of Bengal: যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত। বিশ্বের বহু শক্তিশালী অর্থনীতি যখন নানা প্রতিকূলতার মুখে, তখন ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ (IMF)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। মূলত দেশের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক উন্নতির উপর ভর করেই এই ইতিবাচক অনুমান। অক্টোবর মাসের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে আইএমএফ। জুলাই মাসে চলতি অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৬.৪ শতাংশ। এবার তা সংশোধন করে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বৃদ্ধির সম্ভাবনা ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
আইএমএফের এই সংশোধিত পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অর্থনীতির গতিকে ধরে রাখতে সাহায্য করছে। দেশের বৃহৎ বাজার, জনসংখ্যাগত সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারও দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ছবিটা তুলনামূলকভাবে ম্লান। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার হতে পারে ৩.১ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা কিছুটা বেড়ে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানির চড়া দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করছে।
চিনের অর্থনীতির বৃদ্ধির গতিও ভারতের তুলনায় অনেকটাই কম থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০২৬ সালে চিনের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতিগুলির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী হলেও সতর্কবার্তা দিতে ভোলেনি আইএমএফ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের উপর। এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক সংঘাত, বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা এবং বৈশ্বিক চাহিদার ওঠানামা ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।




