দেশ

ভারতে মজুত রয়েছে ৬০ দিনের জ্বালানি, জানাল কেন্দ্র

আগামী ৬০ দিনের জন্য অপরিশোধিত তেল আমদানির চুক্তি আগেই নিশ্চিত করে রেখেছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। ফলে কোনও সরবরাহ ঘাটতির প্রশ্ন নেই।

Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে তেল-গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে ছড়ানো গুজবকে কার্যত উড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে প্রায় ৬০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস (এলপিজি) মজুত রয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার স্পষ্ট করেছে, দেশে কোনও সরবরাহ ঘাটতি নেই এবং সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় জ্বালানি সংকট নিয়ে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং আতঙ্ক তৈরি করে ‘প্যানিক বায়িং’ ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের জন্য অপরিশোধিত তেল আমদানির চুক্তি আগেই নিশ্চিত করে রেখেছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। ফলে কোনও সরবরাহ ঘাটতির প্রশ্ন নেই।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো ২৬ মার্চের বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছে, ভারতের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থিতিশীল। মন্ত্রকের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ থাকলেও ভারত বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সমস্যা হলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিকল্প বাজার থেকে বেশি পরিমাণে তেল আসায় হরমুজ-কেন্দ্রিক বিঘ্নের প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া গিয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিটি তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) বর্তমানে ১০০ শতাংশের বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে। এর ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রাখার ক্ষমতা প্রায় ৭৪ দিনের। বর্তমানে হাতে থাকা মজুত (অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ মিলিয়ে) প্রায় ৬০ দিনের সমান।

মন্ত্রকের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের ২৭তম দিনেও ভারতের হাতে প্রায় দু’মাসের জ্বালানি নিরাপত্তা রয়েছে। রান্নার গ্যাস (এলপিজি) নিয়েও স্বস্তির বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, দেশে এলপিজির উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে অতিরিক্ত এলপিজি কার্গো আগাম নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে সরবরাহে কোনও বাধা না আসে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, জ্বালানি ঘাটতি বা জরুরি ব্যবস্থা চালুর মতো ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এই ধরনের ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেন্দ্র।

 

Related Articles