দেশ

সিলিন্ডার বুকিংয়ের দিন শেষ! বাড়িতে পাইপলাইন গ্যাস নেবেন কীভাবে? জানুন আবেদন থেকে খরচ সবটা

এখন গ্রাহকদের পিএনজি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।

Truth of Bengal: ভারত জুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে পাইপলাইন ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি সংযোগের প্রসার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এলপিজি সরবরাহে টান পড়ায় সরকার এখন গ্রাহকদের পিএনজি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। আপনি যদি আপনার বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার বদলে পিএনজি সংযোগ নিতে চান, তবে তার প্রক্রিয়া এবং খরচ নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:

সব এলাকায় এখনো পিএনজি পৌঁছায়নি। তাই প্রথম কাজ হলো আপনার এলাকায় কোন সংস্থা পরিষেবা দিচ্ছে তা জেনে নেওয়া। ভারতের প্রধান কিছু অপারেটর হলো:

  • Indraprastha Gas Limited (IGL): দিল্লি এবং এনসিআর।

  • Mahanagar Gas Limited (MGL): মুম্বাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকা।

  • Gujarat Gas: আহমেদাবাদ, সুরাটসহ গুজরাটের বিভিন্ন শহর।

  • Adani Total Gas: আহমেদাবাদ, ভাদোদরা, ফরিদাবাদ এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ।

  • GAIL Gas Limited: বেঙ্গালুরু, পাটনা এবং মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা।

আপনার এলাকার পিন কোড দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজেই চেক করতে পারেন যে সেখানে পাইপলাইন আছে কি না।

আবেদনের পদ্ধতি (অনলাইন বা অফলাইন)

পরিষেবা উপলব্ধ থাকলে আপনি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা স্থানীয় কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের জন্য সাধারণত যে নথিগুলো প্রয়োজন হয়:

  • পরিচয়পত্র (আধার কার্ড/প্যান কার্ড)।

  • ঠিকানার প্রমাণপত্র।

  • বাড়ির মালিকানার দলিল বা ভাড়ার চুক্তিপত্র (Rent Agreement)।

  • খরচের হিসাব ও আমানত

পিএনজি সংযোগের ক্ষেত্রে একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট বা নিরাপত্তা আমানত জমা দিতে হয়, যা সাধারণত ফেরতযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ:

  • IGL (দিল্লি): নতুন সংযোগের জন্য প্রায় ৭,০০০ টাকা আমানত নেয়। এতে ১৫ মিটার পর্যন্ত পাইপলাইন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

  • অন্যান্য কোম্পানি ও শহরভেদে এই খরচ ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

পরিদর্শন ও সংযোগ স্থাপন

আবেদন এবং টাকা জমা দেওয়ার পর কোম্পানির প্রতিনিধি আপনার বাড়ি পরিদর্শন করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে:

  • কারিগরি দল এসে পাইপলাইন এবং গ্যাস মিটার বসিয়ে দিয়ে যাবে।

  • নিরাপত্তা পরীক্ষা করার পর গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।

  • যেখানে পাইপলাইন তৈরি আছে, সেখানে ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংযোগ সচল হয়ে যায়।

  • পিএনজি ব্যবহারের সুবিধা কী কী?

  • নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ: এলপিজি-র মতো সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। পাইপলাইনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যায়।

  • সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ বিলিং: যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করবেন, ঠিক ততটুকুরই বিল আসবে (মাসিক বা দ্বিমাসিক ভিত্তিতে)।

  • ঝঞ্ঝাটহীন: সিলিন্ডার বুকিং বা ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করার ঝামেলা নেই।

  • নিরাপত্তা: পিএনজি বাতাসের চেয়ে হালকা, তাই লিক হলেও এটি দ্রুত বাতাসে মিশে যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।

Related Articles