৫ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দ্বিগুণ করল কেন্দ্র
উল্লেখ্য, ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার চালু করা হয়েছিল শহর ও আধা শহর এলাকায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার জন্য।
Truth Of Bengal: দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে দৈনিক যে পরিমাণ ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হত, এবার তা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই বাড়তি বরাদ্দ শুধুমাত্র ৫ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের ২ ও ৩ তারিখে যে পরিমাণ ৫ কেজির সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তার গড় হিসাব অনুযায়ী দ্বিগুণ সিলিন্ডার পাঠানো হবে। এই বাড়তি সিলিন্ডার কেবলমাত্র পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার চালু করা হয়েছিল শহর ও আধা শহর এলাকায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার জন্য। সাধারণ গ্যাস সংযোগ নিতে গেলে স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু কর্মসূত্রে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া শ্রমিকদের কাছে সেই নথিপত্র অনেক সময় থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে কালোবাজার থেকে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হয় তাঁদের। এই সমস্যা দূর করতেই পরিচয়পত্র দেখিয়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার কেনার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
বর্তমানে ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের গ্যাস বাজারেও। অনেক জায়গায় প্যানিক বুকিং বেড়েছে এবং কালোবাজারির অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে। যদিও কেন্দ্র বারবার দাবি করেছে, দেশে পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এইচপিসিএল-সহ বিভিন্ন তেল বিপণন সংস্থাও জানিয়েছে, দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষের কথা ভেবে ৫ কেজির সিলিন্ডারের বরাদ্দ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তেল বিপণন সংস্থাগুলির সহযোগিতায় দ্রুত এই বাড়তি সিলিন্ডার রাজ্যগুলিতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলেও জানা গিয়েছে।






