বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার বহু সোনা-রুপো! অন্ধ্রপ্রদেশে এসিবি-র জালে কোটিপতি সরকারি আধিকারিক
এরপর একযোগে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়
Truth of Bengal: অন্ধ্রপ্রদেশে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)-র হাতে গ্রেফতার হলেন এক সরকারি আধিকারিক। ধৃতের নাম কালিঙ্গিরি সাঁথি। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের এনডাওমেন্ট দফতরের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭ এপ্রিল বিজয়ওয়াড়ায় তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্ত শুরু করে এসিবি। এরপর একযোগে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
এসিবি আধিকারিকরা বিজয়ওয়াড়ায় ধৃত আধিকারিকের ফ্ল্যাট, তাঁর মায়ের মালিকানাধীন পোশাকের দোকান, বোনের বাড়ি এবং পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালান। পাশাপাশি বিশাখাপত্তনমেও তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও একটি সম্পত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে এসিবি আধিকারিকরা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হদিস পেয়েছেন। সূত্রের খবর, তদন্তে উঠে এসেছে বিশাখাপত্তনমে একটি ফ্ল্যাট, বিজয়ওয়াড়ায় একটি জি+২ বাড়ি, নগদ ১.১৫ লক্ষ টাকা, প্রায় ৭৭০ গ্রাম সোনার গয়না, প্রায় ৩ কেজি রুপোর সামগ্রী, এবং প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক ডিপোজিট। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে একাধিক সম্পত্তির নথি, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং দামি সামগ্রী। তল্লাশির সময় একটি ভক্সওয়াগেন পোলো গাড়ি, একটি মোটরবাইক-সহ আরও কিছু যানবাহন বাজেয়াপ্ত করেছে এসিবি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বেনামে আরও সম্পত্তি থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী দল। এসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিককে দুর্নীতি দমন আইন-এর অধীনে মামলা রুজু করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে বিজয়ওয়াড়ার বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। পরে তাঁকে জেলা সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, কালিঙ্গিরি সাঁথি ২০২০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এপিপিএসসি)-এর মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেন। প্রথমে বিশাখাপত্তনম এবং পরে বিজয়ওয়াড়ায় কর্মরত ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সাসপেনশনে ছিলেন এবং নতুন পোস্টিংয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। এসিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনও চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির মোট পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান।






