কুশমন্ডির মঞ্চে মোদীর ঝড়: তৃণমূলকে তোপ,‘জঙ্গলরাজের অবসান আসন্ন’
তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণে বিঁধলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: ভোটের আবহে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি যেন পরিণত হল রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষার মঞ্চে। খাগড়াকুড়ি এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণে বিঁধলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তাঁর সভাকে ঘিরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর ও মালদা থেকেও বহু সমর্থক উপস্থিত হন বলে জানা গিয়েছে। এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ কার্তিক পাল-সহ উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিজেপি প্রার্থীরা। মঞ্চ থেকে মোদীর কড়া বার্তা, “তৃণমূলের জঙ্গলরাজ আর বেশিদিন চলবে না। এই রাজ্যে ভরসার সরকার দরকার, আর সেই সরকার দিতে পারে বিজেপিই।”
তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজেপি ইতিমধ্যেই ছয় দফা গ্যারান্টি ঘোষণা করেছে। “এটা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, মোদীর গ্যারান্টি—এগুলো পূরণ হবেই,” বলেন তিনি। বিজেপির সাম্প্রতিক ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে মোদীর বক্তব্য, “এটা আর পাঁচটা ঘোষণাপত্র নয়, এটা ভরসাপত্র। বিজেপি সরকার এলে রাজ্য থেকে ভয় দূর হবে, আইনের শাসনের উপর মানুষের আস্থা ফিরবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
আদিবাসী প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল সরকার আদিবাসীদের সম্মান দেয় না। দেশের আদিবাসী রাষ্ট্রপতি রাজ্যে এলে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি, বরং অপমান করা হয়েছে।” সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে তুলে ধরে মোদী বলেন,“মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, রাজ্যের এক কন্যার হত্যার প্রতিবাদে তারা একজোট হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল নেতারা খেলাতেও সিন্ডিকেট রাজ ঢুকিয়ে দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর দাবি,“গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে।” কুশমন্ডির সভা থেকে বিজেপির পক্ষে জোরাল বার্তা ছুঁড়ে দিয়ে মোদী কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুললেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।






