মধ্যরাত থেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা: ভোটার তালিকায় নাম তুলতে কাকদ্বীপে জনস্রোত
সব বয়সের নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোটারদের ভোগান্তির আর শেষ নেই। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই যে হয়রানির চিত্র দেখা গিয়েছে রাজ্যজুড়ে, সেই ছবি এখনও বদলায়নি। এবার ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা লাইন দিচ্ছেন ট্রাইব্যুনালে নথিপত্র জমা দিতে। মাঝরাত থেকে লাইন, পরদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা — কাকদ্বীপ এসডিও অফিসে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে জনস্রোত। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য তীব্র আগ্রহের ছবি ধরা পড়ল কাকদ্বীপে। ট্রাইব্যুনালে ফর্ম জমা দিতে মধ্যরাত থেকেই কাকদ্বীপ এসডিও অফিসের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার মানুষ। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী— সব বয়সের নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেকেই আগের দিন রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন, যাতে সকালেই ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ পান। ভোর হতে না হতেই সেই লাইন আরও দীর্ঘ হতে থাকে। দুপুর গড়াতেই পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, অফিস চত্বর থেকে রাস্তায় কয়েকশো মিটার পর্যন্ত লাইন পৌঁছে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা জানান, “রাত দুটো থেকে দাঁড়িয়ে আছি। বয়স হয়েছে, কিন্তু নামটা ভোটার তালিকায় তোলাটা খুব দরকার।” অন্যদিকে এক যুবক বলেন, “আগে অনেকবার চেষ্টা করেও হয়নি, তাই এবার আগে থেকেই এসে দাঁড়িয়েছি।”
তবে এত মানুষের ভিড়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যাপ্ত কাউন্টার বা কর্মীর অভাবের কারণে কাজের গতি ছিল ধীর, ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেকেই অভিযোগ করেন, সঠিক নির্দেশিকা না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এসডিও অফিসের এক আধিকারিক জানান, “বিপুল সংখ্যক মানুষ ফর্ম জমা দিতে এসেছেন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও, এদিনের চিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে—ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এবং প্রয়োজন কতটা তীব্র। আর একই সঙ্গে ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কও কতটা তীব্র, সেই ছবিটাও ধরা পড়েছে।






