দেশ

আত্মীয় ও বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণ! জুয়ারি স্বামীর নারকীয় অত্যাচার প্রকাশ্যে আনলেন মহিলা

একসময় তাঁর জুয়ারি স্বামী নাকি জুয়া খেলার সময় তাঁকে বাজিও রাখেন।

Truth Of Bengal: উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার এক মহিলার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করে আসছিল। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর মীরাটের খিওয়াই গ্রামের দানিশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

অভিযোগকারী জানান, তাঁর স্বামী মদ্যপান ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁকে মারধর করতেন। একসময় তাঁর জুয়ারি স্বামী নাকি জুয়া খেলার সময় তাঁকে বাজিও রাখেন।

তিনি বলেন, “স্বামী ও অন্য অভিযুক্তরা আমাকে মারধর করত এবং অন্য পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করত।” তিনি দাবি করেন, স্বামী জুয়ায় হেরে যাওয়ার পর আটজন তাঁকে ধর্ষণ করে। তাদের মধ্যে তিনজন—উমেশ গুপ্ত, মনু এবং অঙ্কুল ঘাজিয়াবাদের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে নির্যাতন করেছে। তাঁর দাবি, স্বামীর বড় ভাই শাহিদ তাঁকে ধর্ষণ করে এবং ননদের স্বামী শওকিনও একই কাজ করে। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর শ্বশুর ইয়ামিনও তাঁকে ধর্ষণ করে বলেন, “তুমি পণ আনোনি, তাই আমরা যা বলব সব মানতে হবে, আমাদের খুশি রাখতে হবে।”

অভিযোগকারিণী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য আমাকে অত্যাচার করা হতো। স্বামী জুয়ায় আসক্ত ছিল, আমাকে বাজি রাখে। তার পর আটজন আমাকে ধর্ষণ করে। আমার শ্বশুরও ধর্ষণ করে এবং বলে, আমি পণ আনি নাই, তাই তাদের খুশি রাখতে হবে। ভাসুর এবং ননদের স্বামীও আমাকে ধর্ষণ করেছে।”

তিনি দাবি করেন, গর্ভবতী হওয়ার পর তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়। তাঁর পায়ে অ্যাসিড ঢালা হয় এবং তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান এবং পরিবারের সদস্যদের ঘটনার কথা জানান। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা এখন তাঁর বাবাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমার গর্ভপাত করানো হয়, পায়ে অ্যাসিড ঢালা হয় এবং আমাকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পথচারীরা আমাকে বাঁচায়। এখন আমাদের মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বাগপতের এসপি অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানান। পুলিশ এক্স–এ দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছে, বিনৌলি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন।

Related Articles